সিলেট

সুনামগঞ্জে সরকারি জলমহালের মাছ লুটের অভিযোগ

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪৮

সুনামগঞ্জে সরকারি জলমহালের মাছ লুটের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সরকারের ইজারা দেওয়া ‘হাতনি গ্রুপ’ জলমহাল থেকে দফায় দফায় প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি মহলের অব্যাহত লুটপাটের কারণে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছে ইজারাদার সংগঠন ‘হাতনি জয়পুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিরাই উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ফটকের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ৮ আগস্ট এবং ২ সেপ্টেম্বর পার্শ্ববর্তী শাল্লা উপজেলার আটগাঁও, সোনাকানি, মির্জাপুর ও নিজগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক লোক ৩০ থেকে ৪০টি নৌকায় করে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জলমহালে অনাধিকার প্রবেশ করে। তারা কোনা জাল, কারেন্ট জাল ও সুতার জাল ব্যবহার করে জোরপূর্বক বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে নিয়ে যায়।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ রঞ্জন দাস বলেন, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে আমাদের পাহারাদার ও মৎস্যজীবীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই দফায় আনুমানিক দেড় কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুট করেছে। আমরা ছয় বছর মেয়াদে সরকারি নিয়ম মেনে এই জলমহাল ইজারা নিয়েছি। কিন্তু এভাবে মাছ লুট হতে থাকলে সরকারের বাৎসরিক কোটি টাকার উপরে খাজনা পরিশোধ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেন, লুণ্ঠনকারীরা নিষিদ্ধ কারেন্ট ও কোনা জাল ব্যবহার করায় বড় মাছের পাশাপাশি পোনা মাছও নিধন হচ্ছে। এতে জলমহালের মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে লুটপাটের আতঙ্কে জলমহাল এলাকায় সাধারণ মৎস্যজীবীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার জানান, মাছ লুটের অভিযোগ এনে দিরাই ও শাল্লা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সমিতির সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ সম্মেলনে মৎস্যজীবী নেতারা লুণ্ঠনকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, জলমহালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি রাজস্ব রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান। এ সময় সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন