সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সিলেটে মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ প্রবাসীর

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:২২

সিলেটে মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ প্রবাসীর

নিজের মা ও ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে জাল আমমোক্তারনামা তৈরি করে পৈতৃক সম্পত্তি দখল, ভাড়ার প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কানাডাপ্রবাসী মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বোন তাজিন ইসলাম চৌধুরী। একই সঙ্গে নিজেদের উত্তরাধিকারী সম্পত্তির অধিকার ফিরে পাওয়া, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে এহসানুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তাঁদের বাবা এনামুল ইসলাম চৌধুরী ২০২১ সালে মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকার সূত্রে সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় অবস্থিত পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদার হন তাঁরা। এ সম্পত্তি বণ্টনের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রিকৃত বাটোয়ারানামাও সম্পাদিত হয়। ওই বাটোয়ারানামা অনুযায়ী, সুবিদবাজারে অবস্থিত ব্র্যাক ব্যাংক ভবনের অর্ধাংশ এবং পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারের ভূমির অর্ধাংশ তাঁদের প্রাপ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়।

তবে তাঁদের অভিযোগ, ছোট ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মা বুলবুল নাহার চৌধুরী ও তাঁদের সহযোগীরা পল্লবী কমিউনিটি সেন্টার এবং ব্র্যাক ব্যাংককে ভাড়া দেওয়া চারতলা ভবনটি জবরদখল করে রেখেছেন। তাঁদের পক্ষে নিযুক্ত আমমোক্তার মো. আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এহসানুল ও তাজিন ইসলাম চৌধুরী প্রবাসে থাকার সুযোগে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), বুলবুল নাহার চৌধুরী, মাসুক মিয়া ও নওশেবা ফারাহ তুনা তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করেন। ওই দলিল ব্যবহার করে ২০২১ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের সুবিদবাজার শাখা থেকে তাঁদের প্রাপ্য ভাড়ার অর্ধাংশ বাবদ আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন এহসানুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তাঁরা। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিতর্কিত আমমোক্তারনামা জব্দ এবং বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষর পরীক্ষা করারও আদেশ দিয়েছেন আদালত বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতারণা প্রতিরোধে গত ২২ এপ্রিল কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে তাঁরা ‘Declaration to Revoke the General Power of Attorney’ সম্পাদন করেছেন বলেও জানান এহসানুল। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে কথিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কার্যকারিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে এহসানুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাঁর ছোট ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু) পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারের ২৬২ শতক জমি এবং ঢাকার ধানমণ্ডিতে অবস্থিত তাঁদের পৈতৃক বাড়ি দখলে রেখেছেন। ২০২৫ সালে দেশে এসে সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের উদ্যোগ নিলে তাঁর ভাই বাটোয়ারানামা অমান্য করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া গত ১৫ অক্টোবর রাতে সুবিদবাজারের বাসায় অবস্থানকালে তাঁদের সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন এহসানুল ইসলাম চৌধুরী। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি ও তাঁর বোন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জাল আমমোক্তারনামা তৈরি ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং জবরদখল হয়ে থাকা জমি ও ভবন প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বুঝিয়ে দেওয়া। পাশাপাশি নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসে অবস্থানরত এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও তাজিন ইসলাম চৌধুরীর পক্ষে দেশে বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত মো. আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং হাবিবুর রহমান শিবলু।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে আরো পড়ুন