সুনামগঞ্জের মানবপাচার মামলার আসামিকে সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সৈয়দ বদরুল আলম (৬০) নামের মানবপাচার মামলার এক আসামিকে সিলেট নগরের আখালিয়ার ৬২/১ সোনালী আবাসিক এলাকার সৈয়দ সদরুল আলমের ছেলে।
শুক্রবার (০২ অেক্টোবর) ভোরে সুনামগঞ্জ সদর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। বিকেলে তাকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরভোগ গ্রামের তছই মিয়ার ছেলে মো. নুর মিয়া তার ছেলে সায়মন মিয়াকে ইউরোপের দেশ স্পেন পাঠাতে প্রায় এক বছর আগে আসামি সৈয়দ বদরুল আলমের সাথে ১৯ লাখ টাকায় কথাবার্তা পাকাপোক্ত করেন। পরে বদরুল ১৯ লাখ টাকা সমজে নেন। কিন্তু মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও বদরুল আর সায়মনকে স্পেন পাঠাতে পারেননি। এনিয়ে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এঘটনার বর্ননা দিয়ে সম্প্রতি নুর মিয়া বাদী হয়ে সৈয়দ বদরুল আলমের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ মাসউদুর রহমানের আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মানবপাচার (পিটিশন) মামলা নং-২৩/২০২৬। আদালত পিটিশনটি আমলে নেন।
পিটিশনকে এফ.আই.আর (এজাহার) হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করতে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পরে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় পিটিশনকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-২৬, তারিখ ১৪/০৯/২০২৬।
থানায় মামলা রেকর্ডের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জোহাব আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জালালাবাদ থানা পুলিশের সহযোগিতায় নগরের আখালিয়ায় অভিযান চালিয়ে বদরুল আলমকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জে নিয়ে যায়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই জোহাব আলী বলেন, সুনামগঞ্জ সদর থানার দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বদরুল আলম। তাকে সিলেটের আখালিয়া থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারের পর সুনামগঞ্জ সদর থানায় নেওয়া হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন