বাংলাদেশ

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের নতুন ইউনিট

নতুন সিলেট ডেস্ক:

নতুন সিলেট ডেস্ক:

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৩২

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের নতুন ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত

সাইবার অপরাধ তদন্তে এবার আলাদা কাঠামো নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় গঠন করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯২ সদস্যের ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর উদ্বোধন করেন।

নতুন ইউনিটের নেতৃত্ব দেবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়েই নয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও থাকবে সাইবার তদন্তের কাঠামো।

বিভাগে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি দায়িত্ব পালন করবেন। জেলায় দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

থানাতেও থাকবে সাইবার তদন্তের জন্য আলাদা জনবল। ওসির নেতৃত্বে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলরা এ দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশের বিদ্যমান প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিটের জনবল পূরণ করা হবে। সাইবার অপরাধ তদন্তে বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হবে। এ জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট থাকবেন ইউনিটে। থাকবেন ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট ও নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটরও।

ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টো ও ম্যালওয়্যার বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণের জন্যও থাকবে বিশেষজ্ঞ দল। বিশেষজ্ঞদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউনিটে আনা হবে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

সাইবার অপরাধ তদন্তে তৈরি করা হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার সরঞ্জাম থাকবে সেখানে।

মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে ল্যাবটি ব্যবহার করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক অপরাধও তদন্তের আওতায় আসবে। গুজব, মাদক ও উগ্রবাদ সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ মোকাবিলাতেও ল্যাবটি কাজ করবে।

উদ্বোধনের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও বাড়ছে।

এ অবস্থায় প্রচলিত পদ্ধতিতে অপরাধ মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই প্রযুক্তি ও মেধাভিত্তিক পুলিশিংয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে এতদিন সাইবার তদন্ত বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়েছে। এতে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।

নতুন ইউনিটের মাধ্যমে সেই ঘাটতি দূর করা হবে। সাইবার তদন্ত ও প্রতিরোধের কাজ একটি কাঠামোর আওতায় আসবে। সাইবার স্পেসের অপব্যবহার বন্ধে ইউনিটটি কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে ইউনিটটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন