সিলেটকে দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) দেশের প্রথম ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সিসিককে সহযোগিতা করবে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগরীর একটি হোটেলে ‘জিওসাইকেল সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও সিলেট সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এ রোডম্যাপ টু বিকাম এ প্লাস্টিক পল্যুশন ফ্রি সিটি’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্লাস্টিক দূষণমুক্ত একটি আধুনিক নগর গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণ এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিসিকের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। তিনি যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্ব, আধুনিক অবকাঠামো এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ের মাধ্যমে সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সিটি করপোরেশন।
সেমিনারের শুরুতে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা ‘জিওসাইকেল’-এর কার্যক্রম নিয়ে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শন করা হয়। পরে সিলেট নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। জিওসাইকেলের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব জিওসাইকেল লতিফুর রহমান।
সেমিনারে নগরীর লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে অবস্থিত মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ)-এর অগ্রগতি ও কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। ২০২৪ সালে সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত এ প্ল্যান্টে নগরীর বর্জ্য থেকে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য অপচনশীল উপাদান পৃথক করা হচ্ছে। পৃথক করা প্লাস্টিক নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের জন্য লাফার্জহোলসিমের ছাতকস্থ জিওসাইকেল প্ল্যান্টে পাঠানো হয়।
এমআরএফের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এবার সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ বায়োড্রায়িং প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।
সেমিনারে জানানো হয়, বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ ও নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো হয়। এর ফলে বর্জ্যকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, নগরায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিলেটকে দেশের একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে সিসিক কাজ করছে। এমআরএফ আধুনিকায়নের মাধ্যমে নগরীকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, জিওসাইকেলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি টেকসই উন্নয়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাজ করছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ল্যান্ডফিল ও নদীতে পড়া থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সেমিনারে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সামা হক চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সিলেটের উপমহাপরিদর্শক শিপন চৌধুরী এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের প্রধান ড. মো. সালাতুল ইসলাম মজুমদার।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন