সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মনকে (৩০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাথারিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র বর্মনের রেকর্ডভুক্ত একটি জায়গা নিয়ে একই গ্রামের সদর আলীর ছেলে টিনু মিয়ার (৪০) সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে টিনু মিয়া তার ছেলে সঠিক মিয়া, ভাগিনা মনির মিয়াসহ ৫-৬ জনকে নিয়ে ওই জায়গায় যান। এ সময় তারা জায়গাটি নিজেদের দাবি করে সেখানে লাল নিশান টানানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে রবি চন্দ্র বর্মনের ছেলে ও পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষ তর্কে জড়ায় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লিটন চন্দ্র বর্মনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, টিনু মিয়া, তার ছেলে সঠিক মিয়া, ভাগিনা মনির মিয়াসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত শিক্ষকের লিটন চন্দ্র বর্মন ঢাকা পোস্টকে জানান, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগেও টিনু মিয়া লিটন চন্দ্র বর্মনকে হুমকি দিয়েছিলেন। আজ বিদ্যালয়ের সামনে এসে গালিগালাজ করে আমাকে পেছন থেকে মাথায় দা দিয়ে আঘাত করে। এতে আমার মাথা কেটে গেছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত টিনু মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। আহত শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন