সিলেট

মুমূর্ষু প্রসূতির জীবন বাঁচাতে  এগিয়ে এলেন গোয়াইনঘাটের ওসি ওমর ফারুক

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫৯

মুমূর্ষু প্রসূতির জীবন বাঁচাতে  এগিয়ে এলেন গোয়াইনঘাটের ওসি ওমর ফারুক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক। রক্তের অভাবে যখন এক মুমূর্ষু প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন, তখন নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে ওই মায়ের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তিনি।

জানা গেছে, সিলেটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার লেঙ্গুড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হামিদের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জুলফা বেগমকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, প্রসূতি ও গর্ভস্থ সন্তানের জীবন রক্ষায় দ্রুত রক্তের প্রয়োজন।

তবে জরুরি মুহূর্তে রক্তের ব্যবস্থা করতে না পারায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যান জুলফা বেগমের স্বজনরা। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই অবনতি হচ্ছিল তার শারীরিক অবস্থার। একপর্যায়ে বিষয়টি গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুকের কাছে পৌঁছায়।

খবর পাওয়ার পর আর দেরি না করে তিনি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, রোগীর প্রয়োজনীয় রক্তের গ্রুপের সঙ্গে তার নিজের রক্তের গ্রুপ মিলে গেছে। এরপর কোনো ধরনের দ্বিধা না করে নিজেই রক্তদানের সিদ্ধান্ত নেন ওসি ওমর ফারুক।

হাসপাতালে শুয়ে নিজের শরীর থেকে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে প্রসূতি জুলফা বেগমের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সময়মতো রক্ত পাওয়ার পর চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে ওঠেন জুলফা বেগম।

জুলফা বেগমের মামা জুবায়ের আহমদ বলেন, “যখন চারদিকে অন্ধকার দেখছিলাম, কোনোভাবেই রক্তের ব্যবস্থা করতে পারছিলাম না। ঠিক তখনই ওসি স্যারের মতো একজন মানুষ এগিয়ে এসে আমার জুলফার জীবন বাঁচিয়েছেন। তাঁর এই ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না। পুলিশ যে মানুষের এত বড় বন্ধু হতে পারে, তা আজ নিজের চোখে দেখলাম।”

গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শায়লা ইসলাম স্বর্ণা বলেন, সঠিক সময়ে রক্ত পাওয়ায় বর্তমানে রোগী আশঙ্কামুক্ত। ওসি ওমর ফারুকের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতা বড় ধরনের বিপদ থেকে প্রসূতিকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওসি ওমর ফারুকের এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন দৃষ্টান্ত পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়াবে।

ওসি ওমর ফারুক বলেন, “পুলিশের মূল কাজই হলো মানুষের সেবা করা এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানো। একজন গর্ভবতী বোন রক্তের অভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি—এ কথা শুনে থানার নিয়মিত কাজের চেয়ে ওই মায়ের জীবন বাঁচানোকে আমি সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মনে করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি একজন বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক কর্তব্য। একজন মুমূর্ষু মা ও তাঁর সন্তানের জীবন বাঁচাতে পেরে যে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পুলিশ জনগণের সেবক; আমরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছি এবং থাকব।”

একজন প্রসূতির জীবন বাঁচাতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন তাৎক্ষণিক ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন