সিলেট

সিলেটে যুবক খুন, গ্রেফতার ৩

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৬

সিলেটে যুবক খুন, গ্রেফতার ৩

প্রতিকী ছবি

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে মোহাম্মদ লাইছ আহমেদ (৩০) নামে এক যুবককে সেলাই রেঞ্চ দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে কদমতলী এলাকার ফুটপাতে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত মোহাম্মদ লাইছ আহমেদ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া এলাকার আঙ্গুর মিয়ার ছেলে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

পুলিশ কমিশনার জানান, দক্ষিণ সুরমা থানা সংলগ্ন কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’ ও ‘উদার পরিবহন’ বাস কাউন্টারের সামনের ফুটপাতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করার সময় একটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান। বস্তাটি সরানোর চেষ্টা করলে ভেতর থেকে মানুষের একটি পা বেরিয়ে আসে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ, ফাঁড়ি পুলিশ ও পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নেয় পুলিশ। তদন্তে দেখা যায়, বিকেলের দিকে একটি ভ্যানগাড়িতে করে বস্তাটি এনে ওই ফুটপাতে ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ ভ্যানচালককে শনাক্ত করে হেফাজতে নেয়।

ভ্যানচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার খালপার এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে থাকা মূল অভিযুক্ত দোকান মালিক শামছু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তার মূল বাড়ি হবিগঞ্জে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শামছু মিয়া জানান, নিহত লাইছ আহমেদ তার কাছে পূর্বের পাওনা টাকা পেতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে লাইছ পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে গালিগালাজ করলে শামছু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় দোকানে থাকা ভারী সেলাই রেঞ্চ দিয়ে লাইছের মাথায় সজোরে আঘাত করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই লাইছের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শামছু তার দুই বন্ধু মামুন ও সাজুকে সঙ্গে নেন। পরে তারা তিনজন মিলে মরদেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে একটি ভ্যানগাড়িতে করে নিয়ে গিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে রাখেন।

পরবর্তীতে শামছু মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহায়তার অভিযোগে মামুন ও সাজুকেও গ্রেফতার করে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন