সিলেট

হবিগঞ্জে বুজুর্গের ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যক্তি নামে নামজারি, হুঁশিয়ারি ভক্তদের

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৪৬

হবিগঞ্জে বুজুর্গের ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যক্তি নামে নামজারি, হুঁশিয়ারি ভক্তদের

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মৃত বিশিষ্ট বুজুর্গ ও দরবেশ হাফেজ আব্দুল বারী (রহ.) জনস্বার্থে ওয়াকফ করে যাওয়া ৮২ শতাংশ ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যক্তি নামে নামজারি করার অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সমস্যা সমাধান না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, সিলেটের বিশিষ্ট সাধক মাহমুদ শাহ বক্স (রহ.)-এর অন্যতম প্রধান শিষ্য ছিলেন হাফেজ আব্দুল বারী (রহ.)। তিনি তার পীরের নির্দেশনা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রায় অর্ধশত বছর পূর্বে মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের দেবীপুর মৌজায় তার সমাধিস্থলসহ ৮২ শতাংশ জমি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য দলিল করে যান।

দলিল মোতাবেক সেই সম্পত্তিকে স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন ও হতরিদ্রদের কল্যাণে ব্যবহার করতে ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দলিলের কপি সংশ্লিষ্টদের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তার দুই ছেলে মরহুম আজিজুর রহমান ও লুৎফুর রহমান নিজেদের নামে ওই সম্পত্তির রেকর্ড করান। তাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলেও পরবর্তী সময়ে কয়েকজন ওয়ারিশ ওই রেকর্ডকে ভিত্তি করে নিজেদের নামে নামজারি করে নেন। অভিযোগকারীদের দাবি, মূল দলিলের শর্ত উপেক্ষা করে এভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যক্তি নামে নামজারি করা আইনসঙ্গত নয়। পরে সম্পত্তিটি একাধিকবার হাতবদল হয়ে বর্তমানে ব্যক্তিগত দখলে রয়েছে।

ভক্তদের অভিযোগ, তৎকালীন ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ওই নামজারি করে থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে নামজারি বাতিলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ওই এসিল্যান্ডের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় হযরত মাহমুদ শাহ বক্স (রহ.)-এর মাজারের পাশে। তিনি নিজেও ওই বুজুর্গের গুণগ্রাহী ও ভক্ত ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার বদলি হওয়ায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে গত ১৩ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তদন্ত হলেও এখন পর্যন্ত নামজারি বাতিল কিংবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

মনতলা ভূমি অফিসের তফসিলদার মুজিবুর রহমান বলেন, আমি লিখিতভাবে ওই নামজারি বাতিলের জন্য স্যারকে চিঠি দিয়েছি। পরে আবার তদন্ত দেওয়া হয়েছে, সেখানেও একই প্রতিবেদন দিয়েছি। এখন ব্যবস্থা না নিলে আমার কী করার আছে?

এদিকে কাগজপত্রে ওয়ারিশরা নিজেদের মালিক দাবি করলেও তারাও ওই সম্পত্তির নামজারি নিজেদের নামে বহাল রাখতে চান না বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মূল দলিলের শর্ত অনুযায়ী সম্পত্তিটি ওয়াকফ হিসেবে বহাল রাখা হোক।

স্থানীয় কমলপুর দরবার শরীফের পীর মাওলানা শরিফুর রহমান বলেন, অলি-আউলিয়ারা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে জনসাধারণের কল্যাণের জন্য ওয়াকফ সম্পত্তি দিয়ে যান। কেউ এর মধ্যে ছলচাতুরি করলে, সে ওয়ারিশ হোক কিংবা সরকারি কর্মচারী—এতে বুজুর্গদের আত্মা কষ্ট পায়। এতে তাদের ওপর অভিশাপও নেমে আসতে পারে। দ্রুত সম্পত্তিটি ওয়াকফের স্বার্থে বহাল করা উচিত।

চুনারুঘাটের হযরত নাসির উদ্দিন সিপাহসালার দরগা শরীফের অন্যতম খাদেম হযরত মুরাদ শাহ বলেন, মাজার, অলি-আল্লাহ ও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে ইদানীং ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হাফেজ আব্দুল বারীর সম্পত্তি দ্রুত উদ্ধার ও ষড়যন্ত্রমুক্ত করা না হলে আমরা আন্দোলনের ডাক দেব।

এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও ও ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড মেহেদী হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন