সিলেট

সিকৃবিতে শিক্ষকসহ ৯ জনের পদত্যাগ

নতুন সিলট প্রতিবেদক:

নতুন সিলট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৩২

সিকৃবিতে শিক্ষকসহ ৯ জনের পদত্যাগ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ৯ জন পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের পাঁচ শিক্ষক রয়েছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন—এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন এবং দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার।

এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ মো. বাসির উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ এবং অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান।

পদত্যাগের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন পদত্যাগকারীরা। এ সময় তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়োগ ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে আসছে। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ে শোকজ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তাদের আরও অভিযোগ, আবেদন করার ন্যূনতম যোগ্যতা নেই—এমন ব্যক্তিদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষা কার্যক্রমেও পড়ছে বলে দাবি করেন তারা।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের অপসারণ দাবি করেন তারা।

পদত্যাগকারী শিক্ষকদের অন্যতম এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ কারণে আমরা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান উপাচার্যকে দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।”

তবে শিক্ষকদের আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। একইভাবে আর্থিক ক্ষেত্রেও কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করা হয়নি।”

উপাচার্য আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন