ছবি সংগৃহীত :
হ্যারি ব্রুকের রেকর্ডগড়া দ্বিশতকও শেষ পর্যন্ত কাজে এল না। ইংল্যান্ডের ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ টপকে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে ২ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। রোমাঞ্চকর এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় বার্তা দিল লঙ্কানরা।
ওয়ানডে ক্রিকেটে রানবন্যার এক মহাকাব্যিক ম্যাচের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচে দুই দলের ব্যাটারদের সম্মিলিত সংগ্রহ ৮৫৯ রান, যা ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৮ রান। পঞ্চম বলে জশ টংকে লং-অফের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন জানিথ লিয়ানাগে। শেষ মুহূর্তের এই ছক্কাতেই পূর্ণতা পায় শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য রান তাড়ার কীর্তি।
এর আগে টসের পর ব্যাট করতে নেমে হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী দ্বিশতকে ভর করে ৪ উইকেটে ৪২৯ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। মাত্র ১১৪ বলে ২০০ রান পূর্ণ করেন ব্রুক। এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম দ্বিশতকের বিশ্বরেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এই সংস্করণে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি।
ইনিংসের শুরুতে ২৪ বলে মাত্র ১৩ রান করা ব্রুক পরে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তোলেন। মাত্র ৭৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ইনিংসের শেষ ওভারে পৌঁছে যান দ্বিশতকে। তার রেকর্ডগড়া ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৫টি চার ও ১২টি ছক্কায়। ব্রুকের এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই বড় সংগ্রহের ভিত পায় ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের ৪২৯ রান তাদের ওয়ানডে ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাশাপাশি টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
তবে পাহাড়সম লক্ষ্যও শ্রীলঙ্কার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। শুরুতে ২৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় লঙ্কানরা। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে পবন রথনায়েকে ১০৬ বলে ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫টি চার ও তিনটি ছক্কা।
এ ছাড়া অবিষ্কা ফার্নান্দো ও দাসুন শানাকা করেন ৯৭ রান করে। তাদের কার্যকর ব্যাটিংয়ে জয়ের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখে শ্রীলঙ্কা। পুরো ইনিংসজুড়েই দ্রুত রান তুলতে থাকা লঙ্কান ব্যাটাররা শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেন।
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন পবন রথনায়েকে। তার সেঞ্চুরির সঙ্গে ফার্নান্দো ও শানাকার ৯৭ রানের ইনিংস দুটি শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড গড়ল শ্রীলঙ্কা। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতা দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ওই ম্যাচে দুই দলের মোট রান ছিল ৮৭২, যা ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
অন্যদিকে, ব্রুকের ব্যক্তিগত রেকর্ডের আনন্দ শেষ পর্যন্ত বিষাদে রূপ নেয় ইংল্যান্ডের জন্য। আদিল রশিদের অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ডের অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের আগ্রাসন সামাল দিতে পারেনি। ফলে বড় সংগ্রহ গড়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ইংলিশরা।
রেকর্ড, রোমাঞ্চ আর শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ভরা এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা প্রমাণ করেছে, ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় লক্ষ্যও অসম্ভব নয়। অন্যদিকে, ব্রুকের ঐতিহাসিক দ্বিশতক ছাপিয়ে ম্যাচের শেষ হাসি হাসল শ্রীলঙ্কাই।
খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন