ছবি: সংগৃহীত
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনার জয়রথ থামিয়ে দিয়েছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কাতালান ক্লাবটিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। আক্রমণাত্মক ফুটবল, পাল্টাপাল্টি গোল আর শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জমে ওঠা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পিএসজি। বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একাধিক সুযোগ তৈরি করে তারা। তবে প্রথম দিকে গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ৩৮ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে intercept করে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় বার্সেলোনা। ৫৫ মিনিটে ফেরমিন লোপেজের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তরুণ জাভি এসপার্ত। এটি ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে তার প্রথম গোল। এরপর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তোলে।
তবে ৭২ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে পিএসজিকে আবারও এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি বার্সেলোনা। ৭৯ মিনিটে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন লামিন ইয়ামাল। তার গোলে ম্যাচে ফেরার আশা জোরালো হয় কাতালানদের।
কিন্তু সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি বার্সেলোনার। দুই মিনিট পরই বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে পিএসজিকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিতিনিয়া। ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আশরাফ হাকিমির ক্রস থেকে গোল করে পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন ফাবিয়ান রুইস।
এই হারে বার্সেলোনার টানা জয়ের ধারায় ছেদ পড়ল। অন্যদিকে নিজেদের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শক্তির জানান দিল পিএসজি। ম্যাচটি আবারও দেখিয়ে দিল, আক্রমণে যতই ধার থাকুক, রক্ষণে সামান্য অসতর্কতা বড় মঞ্চে কতটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন