বাংলাদেশ

নিখোঁজের ২৫ দিন পর তরুণের কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

নতুন সিলেট ডেস্ক :

নতুন সিলেট ডেস্ক :

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮

নিখোঁজের ২৫ দিন পর তরুণের কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

ছবি সংগৃহীত :

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামে এক তরুণের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের পর ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে রাশেদুলের হাড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা প্যান্ট ও গেঞ্জি দেখে এগুলো রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা মো. শাহজাহান।

 

রাশেদুল বওলা ইউনিয়নের কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহানের বড় ছেলে। তিনি বাবার সঙ্গে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইটভাটায় কাজ বন্ধ থাকায় কিছুদিন ধরে বাড়িতেই ছিলেন রাশেদুল। এ সময় স্থানীয় তিন যুবকের সঙ্গে তার নিয়মিত চলাফেরা শুরু হয়।

গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে জসিম মিয়া নামে এক যুবক মোবাইল ফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকেই তার বাবার নম্বরে কল আসে। এক নারী কণ্ঠে ওই ফোনে রাশেদুলকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মুক্তিপণের টাকা দিতে দুই ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা বার্তাও পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাশেদুলের বাবা। পরে ২৫ আগস্ট জসিমকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে থানায় অপহরণ মামলা করেন তিনি।

মামলাটির তদন্তের একপর্যায়ে রোববার দুপুরে নেত্রকোণার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিম মিয়া (২৪) নামে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের মো. রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৭) নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জসিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরে চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রায় ১০ হাত ব্যাসার্ধের জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়, একটি মাথার খুলি এবং পোশাক উদ্ধার করা হয়। পোশাক দেখে সেগুলো নিখোঁজ রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা।

ফুলপুর থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিকরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা রাশেদুলকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। উদ্ধার করা কঙ্কালের অংশগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। গ্রেফতার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা এবং জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন