প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ১৫:৪৯
পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের অস্থিরতার কারণে দেশে বিনিয়োগে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। তাই কয়েক দিনের অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগ দুই পা পিছিয়ে যাবে কিংবা এগিয়ে যাবে, এমনটি মনে করার কারণ নেই।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অস্থিরতাই কাম্য নয়। কারণ একটি অস্থিরতা থেকে নতুন আরেকটি অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে সকালে সিলেটের নাইওরপুল এলাকার একটি হোটেলে ‘সামাজিক সম্প্রীতি, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক ইমাম সম্মেলন ও ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের অসন্তোষের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। সরকার ঘটনার পরপরই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে স্বাভাবিক কারণের বাইরে অন্য কোনো কার্যকারণ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখবেন। এ ধরনের অসন্তোষের কারণে অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থলবন্দরের বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়াতে উভয় দেশকেই উদ্যোগী হতে হবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাগ্য পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ আশঙ্কা করেছিল, বাংলাদেশ আবারও ১৫ আগস্টের আগের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ আর পেছনে ফিরে যেতে চায়নি। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের আগের বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল বিপর্যস্ত। লাভজনক শিল্পকারখানাগুলো জাতীয়করণের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়েও জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল। ১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান সেই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী চার দিন দেশের মানুষের কাছে ছিল চরম অনিশ্চয়তার সময়।
তিনি বলেন, সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা ছিল সীমিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন কিংবা সহজে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ ছিল না। তারপরও ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের সিপাহি এবং বাইরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এক জায়গায় মিলেছিল। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ৭ নভেম্বরের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে শিল্পোন্নত জাপানকে পরাজিত করে বাংলাদেশের বিজয় ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগেও জিয়াউর রহমান নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
জিয়াউর রহমানের সততা, কর্মনিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত জীবনযাপন ও নেতৃত্বের মানদণ্ডের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব গুণাবলি আজও মানুষের কাছে সমাদৃত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও মানুষ একই ধরনের সততা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করে। এই মানদণ্ড থেকে সামান্য বিচ্যুতিও মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করে না।
আগামীর চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যেমন একটি বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি বর্তমান সরকারকেও দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জনসেবার মান বাড়াতে হবে। সরকারকে এমন একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে মানুষ প্রকৃত সেবা পাবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য এমএ মালিক, এমরান আহমদ চৌধুরী ও তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনসহ অনেকে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন