বাংলাদেশ

ব্যবসায়ীকে হত্যা, বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন

নতুন সিলেট ডেস্ক:

নতুন সিলেট ডেস্ক:

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:২৫

ব্যবসায়ীকে হত্যা, বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় বাবা ও তার দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ (প্রথম আদালত) অসীম কুমার দে এ রায় দেন। 

রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি ছয় আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া এবং তার দুই ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মোতাহার ও মনির পলাতক রয়েছেন। খালাস পেয়েছেন একই পরিবারের কামাল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া ও শরীফ মিয়া, কামালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, নবীর হোসেনের স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিন এবং মনিরের স্ত্রী খাদিজা বেগম।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নিমবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী মনির মিয়ার টাকাপয়সার লেনদেন ছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে টাকার বিষয়ে আলোচনার কথা বলে মানিক মিয়াকে ডেকে নেওয়া হয়। তিনি সেখানে গেলে মনিরসহ তার পরিবারের সদস্যরা তার ওপর হামলা চালান এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মানিক মিয়াকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এক বছর পর ২০১৯ সালের নভেম্বরে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ সাত বছর সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দেন।

রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম বলেন, আশা করেছিলাম সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাদীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যাদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তারাই আঘাত করেছিলেন। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। আপিল করব না।
 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন