সিলেট

ময়লার ছবি তুলেই জেতা যাবে লাখ টাকা

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৭

ময়লার ছবি তুলেই জেতা যাবে লাখ টাকা

সিলেট নগরীর কোথায় ময়লা জমে আছে, কোন খাল-ছড়া বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে কিংবা কোথায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নিচ্ছে এডিস মশা, এবার সেসব চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেই জেতা যাবে হাজার হাজার টাকা। এমনকি সেরা ছবি তুলে পাওয়া যেতে পারে এক লাখ টাকার পুরস্কারও।

নগরের পরিবেশদূষণ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করতে ব্যতিক্রমী আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। প্রতিযোগিতায় পেশাদার ক্যামেরার পাশাপাশি মোবাইল ফোনে তোলা ছবিও জমা দেওয়া যাবে।

দুটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পুরস্কার রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি বিশেষ বিভাগে দেওয়া হবে আরও ৫০ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে পুরস্কারের পরিমাণ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
সিসিকের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৭ অক্টোবর এ প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (এসপিএস) কারিগরি সহযোগিতায় প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হচ্ছে। এর মূল বিষয়বস্তু হলো নগরীতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে পরিবেশদূষণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা।
আয়োজকদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিলেট মহানগরীতে বসবাসরত যেকোনো নাগরিক এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। পেশাদার ও শৌখিন আলোকচিত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারক প্যানেলের সদস্যরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না।

প্রতিযোগিতায় ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনের জন্য আলাদা বিভাগ রাখা হয়েছে। ডিএসএলআর, মিররলেস কিংবা ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবি জমা দেওয়া যাবে একটি বিভাগে। অন্য বিভাগটি শুধু মোবাইল ফোনে ছবি তোলার জন্য। একজন প্রতিযোগী যেকোনো একটি বিভাগে অংশ নিতে পারবেন। জমা দেওয়া যাবে সর্বনিম্ন একটি ও সর্বোচ্চ তিনটি ছবি।

কী ধরনের ছবি জমা দেওয়া যাবে

প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোকে। কোথাও জমে থাকা পানিতে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল, ড্রেন কিংবা জলাশয়ে প্লাস্টিক ও পলিথিনের স্তূপ, ছড়া-খাল-নদীতে বর্জ্য ফেলার দৃশ্য কিংবা ময়লার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ছবি জমা দেওয়া যাবে।

পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্ন নগরীর ইতিবাচক চিত্রও প্রতিযোগিতায় স্থান পাবে। অর্থাৎ, শুধু নগরের সমস্যাই নয়, সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডও তুলে ধরার সুযোগ থাকছে।

ছবি জমা দেওয়ার সময় ও নিয়ম

প্রতিযোগিতার জন্য ছবি ধারণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ থেকে ৩০ নভেম্বর। তবে অনলাইনে নিবন্ধন ও ছবি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে ৫ নভেম্বর থেকে। ৩০ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ছবি জমা দেওয়া যাবে।

আগ্রহীদের competition.scc.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে ছবি আপলোড করতে হবে। ছবি রঙিন কিংবা সাদাকালো হতে পারবে। ফাইলের ফরম্যাট হতে হবে জেপিজি বা জেপিইজি।

ক্যামেরায় তোলা ছবির ফাইলের আকার ৫ থেকে ২০ মেগাবাইট এবং মোবাইল ফোনে তোলা ছবির ক্ষেত্রে ২ থেকে ২০ মেগাবাইট নির্ধারণ করা হয়েছে। ছবির মূল উচ্চ রেজল্যুশনের ফাইল সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে আয়োজকেরা মূল ফাইল দেখতে চাইতে পারেন।

ছবিতে সাধারণ ক্রপ, উজ্জ্বলতা, কনট্রাস্ট, এক্সপোজার ও রঙের সামান্য সংশোধন করা যাবে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি, একাধিক ছবি জোড়া দিয়ে তৈরি কম্পোজিট কিংবা বাস্তব দৃশ্য পরিবর্তন করা ছবি গ্রহণ করা হবে না। ছবিতে কোনো ধরনের ওয়াটারমার্ক, নাম বা বর্ডারও রাখা যাবে না।

পুরস্কার কত টাকা

ক্যামেরা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী পাবেন ৬০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী পাবেন ৪০ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী পাবেন ৩০ হাজার টাকা।

মোবাইল ফটোগ্রাফি বিভাগে প্রথম পুরস্কার ৪০ হাজার, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হবে ক্রেস্ট ও সনদ।

মূল পুরস্কারের বাইরে থাকছে তিনটি বিশেষ স্বীকৃতি। সেরা পরিবেশ সচেতনতামূলক আলোকচিত্র এবং সেরা ডেঙ্গু সচেতনতামূলক আলোকচিত্রের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রশাসকের বিশেষ পুরস্কার হিসেবে থাকছে ২০ হাজার টাকা। এসব পুরস্কারের সঙ্গেও থাকবে ক্রেস্ট ও সনদ। তবে একজন প্রতিযোগী একাধিক মূল পুরস্কার পাবেন না।

১০০ নম্বরে ছবি মূল্যায়ন

সিসিকের গঠিত বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে আলোকচিত্র মূল্যায়ন করবে। বিষয়বস্তুর সঙ্গে ছবির সামঞ্জস্য এবং সচেতনতামূলক বার্তার জন্য ২৫ নম্বর করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সৃজনশীলতা ও মৌলিকত্বের জন্য ২০, আলোকচিত্রের মান ও কম্পোজিশনের জন্য ২০ এবং সামগ্রিক নান্দনিকতার জন্য ১০ নম্বর রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৫০ নম্বর পেতে হবে।

নির্বাচিত আলোকচিত্রগুলো নিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রদর্শনীর আয়োজন করবে সিসিক। ছবির স্বত্ব আলোকচিত্রীর কাছে থাকলেও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, প্রদর্শনী, প্রকাশনা, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোকচিত্রীর নাম উল্লেখ করে ছবি ব্যবহারের অধিকার থাকবে সিটি করপোরেশনের।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্যের ছবি, ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত আলোকচিত্র, সিলেট নগরের বাইরের দৃশ্য কিংবা নির্ধারিত সময়ের আগের ছবি জমা দিলে তা বাতিল করা হবে। ছবি তুলতে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা কিংবা নিজের বা অন্যের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া ০১৭৮৬-৮৮৬৭৪৯ নম্বরে যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন