সিলেটের অভিজাত ক্লাব হিসেবে পরিচিত স্টেশন ক্লাবের সদস্যদের হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি নিয়ে গত দুই দিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তবে ক্লাবের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, ভিডিওটি এক বছর আগের। সম্প্রতি ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নতুন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর এটি আবারও ছড়ানো হয়েছে।
ক্লাবের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্লাবের কালচারাল রুমে আড্ডার সময় সদস্য সায়েক খান ও আব্দুল্লাহ আহমদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তর্ক হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় চেয়ার নিয়ে মারামারির ঘটনাও ঘটে। বিবাদ থামাতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য মাহবুব আহমদ মাটিতে পড়ে যান। পরে অন্য সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ক্লাবের সদস্য জাকির আহমদ ঘটনাটি ভিডিও করেন। পরদিন সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওর সূত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তও করে।
ক্লাবের বর্তমান দায়িত্বশীলদের ভাষ্য, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত সোমবারের সভায় সায়েক খান ও ভিডিও ধারণকারী জাকির আহমদকে বিভিন্ন মেয়াদে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ আহমদের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিষয়ে সাবেক সভাপতি শাহ মোশাহিদ আলীকে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন শাহ মোশাহিদ আলী। তার দাবি, সভাপতি থাকাকালে তিনি এ ঘটনার বিচার করেছেন। একই ঘটনায় দ্বিতীয়বার শাস্তি দেওয়া গঠনতন্ত্রবিরোধী। তার দাবি, ওই সময় এক সদস্যকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল।
ক্লাবের পরিচালক (ফাইন্যান্স) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘‘আগের সভাপতি গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেননি। তাই বর্তমান কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’
ক্লাবের সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের নির্বাচনে সভাপতি পদে সায়েকুর রহমান সাক্কু ও শাহ মোশাহিদ আলী সমান ভোট পান। পরে দুজনকে ছয় মাস করে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত হয়। শাহ মোশাহিদ আলী পদত্যাগের পর সাক্কু দায়িত্ব নিলে বিরোধ আরও বাড়ে। ক্লাবের ব্যাংক হিসাব বন্ধ থাকা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলাও চলছে।
এদিকে ভিডিওটি পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
ক্লাবের সভাপতি সায়েকুর রহমান সাক্কু বলেন, ‘‘ঘটনাটি এক বছর আগের। এতদিন পর কী কারণে বা কী উদ্দেশ্যে পুরোনো ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে, তা তার বোধগম্য নয়।’’ এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন