লাইফস্টাইল

শরীরে যেসব লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের সতর্কসংকেত

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৫৮

শরীরে যেসব লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের সতর্কসংকেত

প্রতিকী ছবি

ক্যানসার এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরের কিছু কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং আশপাশের সুস্থ টিস্যুতে ক্ষতি করতে পারে। ক্যানসারের ধরন ও আক্রান্ত অঙ্গের ওপর নির্ভর করে এর লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ শারীরিক পরিবর্তন ক্যানসারের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

 

ক্যানসারের সম্ভাব্য ১০টি সতর্কসংকেত

১. অকারণে ওজন কমে যাওয়া: খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে কোনো পরিবর্তন না করেও হঠাৎ ওজন কমতে থাকা।

২. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অবসাদ দূর না হওয়া।

৩. শরীরে গুটি বা চাকা: স্তন, বগল, কুঁচকি কিংবা শরীরের অন্য কোনো স্থানে নতুন গুটি বা মাংসপিণ্ড দেখা দেওয়া।

৪. অস্বাভাবিক রক্তপাত: কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, মল বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা কিংবা মাসিকের সময়ের বাইরে অস্বাভাবিক রক্তস্রাব হওয়া।

৫. ত্বকের পরিবর্তন: নতুন তিল দেখা দেওয়া, পুরোনো তিলের আকার বা রঙ পরিবর্তন হওয়া কিংবা দীর্ঘদিনেও ত্বকের ক্ষত না শুকানো।

৬. দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা স্বরভঙ্গ: দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকা, গলার স্বর বসে যাওয়া বা স্বাভাবিক স্বর ফিরে না আসা।

৭. মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন: দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া কিংবা মলত্যাগের অভ্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেওয়া।

৮. খাবার গিলতে সমস্যা: খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হওয়া, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী হজমের সমস্যা।

৯. দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা রাতে অতিরিক্ত ঘাম: কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার জ্বর আসা বা রাতে অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া।

১০. দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: শরীরের কোনো স্থানে নতুন ব্যথা দেখা দেওয়া, যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা ক্রমে বাড়তে থাকে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। সংক্রমণসহ বিভিন্ন সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে শরীরে নতুন কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে, বিশেষ করে তা দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে বা ক্রমে বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অস্বাভাবিক রক্তপাত, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা শরীরে নতুন গুটি দেখা দিলে দুই সপ্তাহ অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে লক্ষণের কারণ নির্ণয় করবেন।

ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার সুযোগ ও সফলতার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন