লাইফস্টাইল

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, জানাল গবেষণ

লাইলফস্টাইল ডেস্ক:

লাইলফস্টাইল ডেস্ক:

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ২০:০৮

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, জানাল গবেষণ

ছবি সংগৃহীত :

বিয়ে না করার সঙ্গে কি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির কোনো সম্পর্ক আছে? নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিয়ে না করলেই ক্যানসার হবে কিংবা বিয়ে করলেই এই রোগের ঝুঁকি কমে যাবে। বরং জীবনযাপনের ধরন, ধূমপান, সংক্রমণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রজনন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

গবেষকদের মতে, এসব বিষয় সম্পর্কে জানা গেলে ক্যানসার প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করার উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।

অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের হার কত বেশি?

‘ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের আট বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেসব পুরুষ কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারের হার বিবাহিত পুরুষদের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য ৮৩ শতাংশ।

তামাকের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসার এবং সংক্রমণ ও প্রজনন-ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বেশি দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুসফুস, খাদ্যনালি ও জরায়ুমুখের ক্যানসার।

তবে গবেষণায় ক্যানসারের হার বেশি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে অবিবাহিত হওয়াই রোগটির সরাসরি কারণ। বরং বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয় এই পার্থক্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিয়ে নয়, ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব অভ্যাস

গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার স্কুল অব মেডিসিনের সিলভেস্টার সমন্বিত ক্যানসার কেন্দ্রের ক্যানসার-সংক্রান্ত জনস্বাস্থ্য গবেষণার অধ্যাপক পাওলো এস. পিনেইরোর মতে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ধূমপান, সংক্রমণ, ক্যানসার শনাক্তকরণের পরীক্ষা এবং প্রজনন-সংক্রান্ত অভ্যাসের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে।

এসব বিষয় ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে বলে জানা গেছে। ফলে বৈবাহিক অবস্থা এখানে সরাসরি কারণ না হয়ে কিছু অন্তর্নিহিত ঝুঁকি বোঝার একটি নির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে।

অর্থাৎ, ক্যানসারের ঝুঁকি বুঝতে শুধু কেউ বিবাহিত কি না, তা দেখলেই হবে না। তার জীবনযাপন, স্বাস্থ্যচর্চা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগও বিবেচনা করতে হবে।

নারীদের ক্ষেত্রে প্রজনন-ইতিহাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?

নারীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে প্রজনন-ইতিহাসের সম্পর্ক থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর পূর্ণ মেয়াদে গর্ভধারণের সংখ্যা কম, তাদের ডিম্বাশয়, জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। আলোচ্য গবেষণায় প্রজনন-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই গর্ভধারণের ইতিহাস এই গবেষণায় দেখা পার্থক্যের পেছনে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা স্পষ্ট নয়।

বিয়ের চেয়ে সামাজিক সমর্থন কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষণার ফলাফল থেকে বিয়ে করাকে ক্যানসার প্রতিরোধের উপায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং মানুষের পাশে সহায়তাকারী কেউ আছেন কি না, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন এবং প্রয়োজনে তিনি চিকিৎসা নিতে পারছেন কি না—এসব বিষয়ের গুরুত্ব সামনে আসে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী সামাজিক সমর্থন ক্যানসারের ঝুঁকি ও রোগের পরিণতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে সামাজিক সমর্থনের অভাব ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি ১১ শতাংশ বেশি হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একাকিত্বের সঙ্গে তামাক ও মদ্যপানের মতো অভ্যাসের সম্পর্কও থাকতে পারে। এসব অভ্যাস আবার নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে কেউ বিবাহিত কি না, তা দিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগ বা সহায়তা পাওয়ার মাত্রা সব সময় বোঝা যায় না।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

গবেষণাটির মূল শিক্ষা হলো, বৈবাহিক অবস্থার চেয়ে ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান এড়িয়ে চলা, ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং অসুস্থ হলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। তাই এর ফলাফল দিয়ে প্রমাণ করা যায় না যে বিয়ে না করার কারণে ক্যানসার হয়। বরং বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক পার্থক্যগুলো বুঝে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কার্যকর প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক।

লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন