সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় গভীর রাতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করার অভিযোগে সাত কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটক সাতজনই কিশোর এবং তারা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার ও স্থানীয়রা। আটকরা হলেন—অনিক দাস (১৭), বর্ষণ তালুকদার (১৭), সৌমিত্র দাস (১৬), অভি দাস (১৫), রুপম দাস (১৫), দ্বীপ্ত দাস (১৬) ও ইমন দাস (১৫)। অনিকের বাড়ি হবিবপুর গ্রামে। অপর ছয়জনের বাড়ি ডুমরা গ্রামে।
স্থানীয়দের দাবি, আটক কিশোরদের মধ্যে বর্ষণ তালুকদার ও অভি দাস কলেজের শিক্ষার্থী। অন্যরা মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। কিশোরদের সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের একটি দোকানে পার্টি করেন ওই কিশোররা। পরে পার্টি শেষে সবজি বাজার হয়ে থানা রোড দিয়ে যাওয়ার সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন। বিষয়টি শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেলের নজরে আসে। ওই সময় তিনি থানার পাশে শহীদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটছিলেন।
সূত্রের দাবি, মিছিল চলাকালে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ৩-৪ জনকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে গেলে পরে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটক অভি দাসের বাবা বাদল দাস বলেন, “আমার ছেলে রাজনীতির সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্ট নয়। প্রথমে আমি ঘটনা জানতাম না। পরে সকালে থানায় গিয়ে দেখি তারা আটক। এখন সুনামগঞ্জে যাচ্ছি।”
আটক রুপম দাসের মা হেপি দাশ বলেন, “আমার ছেলে বিজ্ঞানের ছাত্র, নবম শ্রেণিতে পড়ে। ওরা একটি ক্লাবে ফুটবল খেলে। ফুটবলের প্রতি তাদের নেশা বেশি। নতুন কুঁড়িতে ক্রিকেটে সে রানার্স আপ হয়েছে। ওরা বাজারে পার্টি খেয়েছিল। পরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওরা রাজনৈতিক সেন্সে এগুলো দেয়নি। দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কেও ওরা অবগত না। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে বেশ চিন্তিত আছি।”
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল বলেন, “তাদেরকে শুধু শিক্ষার্থী হিসেবে দেখলে চলবে না। রাতের আঁধারে স্লোগান দিয়ে মিছিল করার পেছনে মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধনসহ অন্যান্য বিষয়ও রয়েছে। সে জন্য তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে আটক কিশোরদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন