সিলেট

সিসিকে ফেরার মিশনে মরিয়া আলী আকবর

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৫৩

সিসিকে ফেরার মিশনে মরিয়া আলী আকবর

এক কর্মস্থলে দুই দশক। সময়ের হিসাবে প্রায় ২০ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রকৌশল বিভাগেই কেটেছে তার কর্মজীবনের বড় অংশ। পদ বদলেছে, দায়িত্বের পরিধি বেড়েছে। কিন্তু কর্মস্থল বদলায়নি।

অবশেষে ডেপুটেশন কাটাতে তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হয়ে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনে যোগদান করেন তিনি।

মূলত; তিনি পৌরসভার কর্মকর্তা। সেসুবাদে সিটি করপোরেশন ছাড়তে হতো। পৌর কর্মকর্তা হয়েই অবসরে যেতে হতো তাকে। ফলে নিজেই তদবির করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বগুড়া পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে পদায়ন হন। মূলত; সিলেট ফিরতে তার এই কৌশল।

সূত্র জানায়, বদলির মিশনের নেপথ্যে রয়েছে ২০২৭ সালে অবসর গ্রহণের পর আবারো চুক্তিভিত্তিক সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী হওয়া। এই পথ খোলাসা করতেই পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা হওয়ার পথ প্রসারিত করেছেন। খুব সূচারুভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন আওয়ামী লীগের আমলের দাপুটে এই কর্মকর্তা। এ জন্য কাউকে না জানিয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সিলেট ত্যাগ করেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সিটি করপোরেশনে যোগদান করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, পদায়নের পর থেকে তিনি সিলেট সিটিতে যাতে কেউ আসতে না পারেন, এ জন্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া সিলেট ছাড়ার সময় তিনি আইসিটি বিভাগের মাধ্যমে সিসিকের ওয়েব সাইট থেকে নিজের নাম, পদবি সংবলিত ছবি সরিয়ে যান। যাবার বেলায় তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের কাউকে চলতি দায়িত্ব দিয়ে যাননি। আর কেউ যাতে চেয়ারে বসতে না পারে, সে জন্য বিশেষভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।  

২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় নাটোর পৌরসভা থেকে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানের হাত ধরে ডেপুটেশনে সিটি করপোরশেনে আসেন আলী আকবর। সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে পূর্ত শাখায়  যোগদান করেছিলেন তিনি। এরপর আর চাকরী জীবনের সোনালী অধ্যায় কটিয়েছেন সিলেটেই। অবসরের ঘন্টা বাজার আগেই ভবিষ্যৎ ভাবনা পেয়ে বসেছে তাকে। তাই সিলেট ছাড়তে নাজার তিনি। নিশ্চিত ফেরার লক্ষ্যে যাবার বেলায় সহকর্মীদের কাছে থেকে বিদায়ী সংবর্ধনাও নিয়ে যাননি তিনি। এমনটি জানিয়েছেন তার সহকর্মীরাও। দুই দশক পর বদলীর আদেশ হলেও সিলেটের মোহ ত্যাগ করতে পারছেন না আলী আকবর। কিন্তু কেন, সেই প্রশ্ন এখন ঘোরপাক খাচ্ছে সর্বমহলে।

ঠিকাদারদের অনেকে জানিয়েছেন, বিদায়ের আগে অনেক উন্নয়ন কাজের অর্থ ছাড় না দিয়ে তিনি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাতে অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। অর্থ ছাড় না পাওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা করে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখেছেন, যাতে বাধ্য হয়ে তাকে সিলেট সিটি করপোরেশনে ফিরিয়ে আনতে হয়।

গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাকে বদলী চিঠি আসে। এমনটি নিশ্চিত করেছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।

স্থানীয় সরকার বিভাগ ওই আদেশে আলী আকবরকে নবগঠিত বগুড়া পৌরসভার  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বদলী করে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন