ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ভারত। একইসঙ্গে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য থেকেই ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেও প্রস্তুত রয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বার্তা দেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কোনও বৈঠক হবে কি না; এমন প্রশ্নের পাশাপাশি দুদেশের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনও বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে এখনও কোনো তথ্য নেই। তবে, এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত হলে আপনাদের তা জানাবো।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর গত রোববার নিউইয়র্কে পৌঁছান। অধিবেশনের ফাঁকে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করেছেন তিনি।
এদিকে, পাঁচদিনের সফরে সোমবার নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে পা রাখার পর থেকেই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। সাইডলাইনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
ভারতের গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করা হয়, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হতে যাওয়া পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের পদায়ন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘পুনরায় স্বাভাবিক ধারায় ফেরার’ ইঙ্গিত কি না।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে আমরা আগেও বলেছি, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। আমাদের বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভেতরে থেকেই আমরা সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আমরা এই সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক উপায়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই।
ভারতে আয়োজিত আসন্ন বহুপাক্ষিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’তে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণ ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল আবারও বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চাই।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত যোধপুর বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আয়োজিত এই যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়া সাতটি বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যতম বাংলাদেশ।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এরপর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্জীবিত করতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তবে, ভারতের চেষ্টার পরও দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি তারেক রহমান। এখন নয়াদিল্লির চাওয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফর করেন।
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন