প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন বিদেশি নাগরিকরা। কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য দেশটিতে রয়েছে একাধিক পথ। এর মধ্যে প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার শ্রেণি হলো—ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, এসব শ্রেণিতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা ও সাফল্য থাকা পেশাজীবী থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা কর্মীরাও আবেদন করতে পারেন।
প্রথম শ্রেণি ইবি-১ মূলত নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারীদের জন্য। বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব থাকা ব্যক্তিরা এ শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন।
এছাড়া অসামান্য অধ্যাপক ও গবেষক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পর্যায়ের ব্যবস্থাপক ও নির্বাহীরাও এই শ্রেণির আওতায় পড়তে পারেন।
দ্বিতীয় শ্রেণি ইবি-২-এর আওতায় রয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিজ্ঞান, শিল্প বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা।
এই শ্রেণির কিছু আবেদনকারী জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারলে জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের জন্যও বিবেচিত হতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এ ব্যবস্থায় প্রচলিত নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তা থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণি ইবি-৩ তুলনামূলকভাবে আরও বিস্তৃত। এতে অন্তত দুই বছরের প্রশিক্ষণ বা কাজের অভিজ্ঞতা থাকা দক্ষ কর্মীরা আবেদন করতে পারেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রিধারী পেশাজীবীরাও এ শ্রেণির আওতায় পড়তে পারেন।
এছাড়া দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা থাকা কিছু কর্মীকেও এই শ্রেণিতে বিবেচনা করা হয়। তবে ইবি-৩ শ্রেণিতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়ার সীমা থাকায় অনেক সময় অপেক্ষার মেয়াদ দীর্ঘ হতে পারে।
কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্রের কোনো একটি শ্রেণির যোগ্যতা পূরণ করলেই তা নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি শ্রেণির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে হয়।
কোথাও শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, আবার কোথাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জন এবং জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বীকৃতির প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ করে ইবি-৩ শ্রেণির অনেক আবেদনে নিয়োগকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চাকরির প্রস্তাবের পাশাপাশি নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় শ্রমসংক্রান্ত প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হতে পারে। তাই শুধু কোনো নির্দিষ্ট পেশায় কাজ করলেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যাবে—বিষয়টি এমন নয়।
কর্মসংস্থানভিত্তিক এই সুযোগ শুধু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, গবেষক বা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পেশাজীবী, দক্ষ কর্মী এবং কিছু ক্ষেত্রে কম অভিজ্ঞতার কর্মীরাও এ ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন।
তবে পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে আবেদনকারীর যোগ্যতা, চাকরির ধরন, নিয়োগকর্তার ভূমিকা এবং ভিসার প্রাপ্যতার ওপর। তাই যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের নিজের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অর্জনের সঙ্গে কোন শ্রেণির শর্ত মেলে, তা যাচাই করে আবেদন প্রক্রিয়ায় এগোনো গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন