প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০০:২২
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (শাবিপ্রবি) দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অন্য চারটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে পরিচালিত "এন্ডিং সেক্সুয়াল অ্যান্ড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স ইন ওয়ার্কপ্লেসেস, পাবলিক স্পেসেস অ্যান্ড ইন টারশিয়ারি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস ইন বাংলাদেশ (ESGBV)" প্রকল্পের অধীনে এই যৌথ কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির উপাচার্য ড. মো. খায়রুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করাই যথেষ্ঠ নয়; কমিটিকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। যৌন হয়রানি সংক্রান্ত সকল অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যৌন হয়রানি রোধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি, নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে শাবিপ্রবির জিরো-টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ এবং ইউজিসির নির্দেশনার আলোকে ক্যাম্পাসে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, অভিযোগ কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার আলোকে ইতিমধ্যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, কেবল নীতিমালা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; একটি সত্যিকার অর্থে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস তৈরিতে নিরবচ্ছিন্ন সচেতনতা, সতর্কতা, জবাবদিহিতা এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এজন্য ইউএন উইমেনের সাথে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।
এসময় ইউজিসির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন কমিশনের সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং ইউএন উইমেনের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং।
এছাড়া অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলেগেশনের ডেপুটি হেড অব ডেলেগেশন বাইবা জারিনা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউজিসি সচিব ড. মোঃ ফখরুল ইসলাম।
এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউএন উইমেনের EVAW ইউনিট ম্যানেজার শ্রাবণা দত্ত। এছাড়া সিভিল সোসাইটি পার্টনার 'আইন ও সালিশ কেন্দ্র' (ASK)-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যারা মাঠপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই প্রকল্পের কৌশলগত বাস্তবায়নে নিয়োজিত থাকবেন।
এই অংশীদারিত্বের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর আওতায় অভিযোগ গ্রহণ কমিটির (Complaint Committees) দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ জোরদার করা, সচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা হবে।
শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন