সিলেট

সিলেটে প্রেমঘটিত সম্পর্কের সন্দেহে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা: পুলিশ কমিশনার

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১২

সিলেটে প্রেমঘটিত সম্পর্কের সন্দেহে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা: পুলিশ কমিশনার

সিলেট নগরীর শাহপরাণ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরে সৃষ্ট সন্দেহ কাজ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জালাল (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।

পুলিশ কমিশনার জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেফতার জালালের সঙ্গে রেহানা পারভীন নামের এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও গত প্রায় তিন মাস ধরে বিয়ের বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।

দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তার মধ্যে জালালের সন্দেহ হয়, রেহানা তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এ সময় শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে রেহানার নিয়মিত কথাবার্তা ও হাসিঠাট্টা হতো জানতে পেরে জালাল সন্দেহ করেন, তাঁদের মধ্যে অন্য কোনো সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে কি না। সেই সন্দেহ থেকেই শাহাব উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

কমিশনার আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে এই ধারণা করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর বাইরে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত রোববার দিবাগত রাতে শাহাব উদ্দিনকে তাঁর বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্বজনেরা। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাঁর বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল।

নিহত শাহাব উদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি শাহপরাণ এলাকায় বসবাস করতেন। চারখাই বাজারে তাঁর ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা ছিল। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। তাঁর এক ছেলে ফ্রান্সে বসবাস করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল—এমন কোনো তথ্য তাঁদের জানা ছিল না।

ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহপরাণ মাজার এলাকা থেকে জালালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ময়নাতদন্ত শেষে গত বুধবার দুপুরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ আসর জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন