কিশোর গ্যাং লিডারসহ ৭ জনের নামে মামলা
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১৪:২১
প্রতিকী ছবি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের পর চার দিন আটকে রেখে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকার কথিত কিশোর গ্যাং লিডারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের জহুর ইসলামের ছেলে শাওন ইসলাম। স্থানীয়ভাবে তিনি টিকটকার শাওন নামে পরিচিত বলে মামলার বাদীর অভিযোগ। মামলায় তার সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাদাঘাট এলাকার একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে কলেজে যাতায়াতের পথে কয়েক মাস ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল শাওন ও তার সহযোগীরা। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার বাবা-মা ও স্বজনদের জানালে শাওন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত শুক্রবার ভোররাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই কলেজছাত্রীকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে ফিরে পেতে তার বাবা অভিযুক্ত শাওনের বাবা জহুর ইসলাম ও পরিবারের সদস্যদের কাছে যান। কিন্তু সেখানে সমাধান না হয়ে উল্টো শাওন ওই কলেজছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, শাওনের বিরুদ্ধে এর আগেও স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবার বিভিন্ন সময় অভিযোগ জানালেও প্রভাবশালী স্বজনদের কারণে বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায়।
এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সাইবার বুলিং চালিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
ভুক্তভোগীর বাবা-মা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। মেয়ের সম্ভ্রমহানি হওয়ার আগেই তাকে নিরাপদে ফিরে পেতে এবং অপহরণে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, ভুক্তভোগীকে দ্রুত উদ্ধার এবং অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।
মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন