প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:০১
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির পরামর্শে মৃগীরোগের ওষুধের মাত্রা কমিয়ে খিঁচুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এক তরুণী। এ ঘটনায় চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের বাবা-মা। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বসবাসকারী চীনা বংশোদ্ভূত সফটওয়্যার প্রকৌশলী বোয়েন ওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এআইয়ের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের নিরাপত্তা নিয়ে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থানের সন্ধান করছিলেন বোয়েন। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতেও তার নতুন চাকরির প্রয়োজন ছিল। এ সময় মৃগীরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ল্যামোট্রিজিন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা কমে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। চাকরির সাক্ষাৎকারে ভালো করার উদ্দেশ্যে ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম ল্যামোট্রিজিন সেবন করতেন বোয়েন। চ্যাটজিপিটি তাকে ধাপে ধাপে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে শূন্যে নামানোর পরিকল্পনা দেয়। এমনকি ওষুধের মাত্রা কমালে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশি বলেও তাকে আশ্বস্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরিবর্তে চ্যাটজিপিটি তাকে নিজেই ওষুধ কমানোর বিষয়ে উৎসাহিত করে। ওষুধের মাত্রা কমানোর সময় শরীরে খিঁচুনির লক্ষণ দেখা দিলেও চ্যাটবটটি তাকে আশ্বস্ত করে যে এতে মস্তিষ্কের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এমনকি তার উপসর্গগুলোকে খিঁচুনি বলেও শনাক্ত করতে পারেনি চ্যাটজিপিটি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি খিঁচুনিতে মৃত্যু হয় বোয়েনের। এর দুই দিন পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি চীনে থাকা তার বাবা-মা সিয়াটলে পৌঁছে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতের বাবা-মায়ের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটির চীনা ভাষার কথোপকথনে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে এ মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হতো। তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করার পাশাপাশি লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, বোয়েন চ্যাটজিপিটির এমন একটি পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করেছিলেন, যা বর্তমানে আর চালু নেই। নতুন সংস্করণগুলো জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা শনাক্ত করতে আগের তুলনায় আরও সক্ষম বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনা আবারও এআইয়ের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃগীরোগের মতো জটিল অসুস্থতায় চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধের মাত্রা কমানো কিংবা বন্ধ করা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শ কোনোভাবেই চিকিৎসকের বিকল্প হতে পারে না।
তথ্য প্রযুক্তি থেকে আরো পড়ুন