সিলেট

সুনামগঞ্জে মৃত্যুর ৩ মাস পরও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট

নতুন সিলেট প্রতিবেদক;

নতুন সিলেট প্রতিবেদক;

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৫৭

সুনামগঞ্জে মৃত্যুর ৩ মাস পরও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় মৃত্যুর তিন মাস পর এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওই নেতার নাম আবুল খয়ের ইসরাইল। তিনি উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল তিনি মারা যান। তবে তার মৃত্যুর তিন মাস পর ৩১ জুলাই আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই মামলায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ ৭৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আবুল খয়ের ইসরাইলকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর মীরপুর বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৪৯ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

মামলায় জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালনসহ দলীয় নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে।

মামলার ৫৬ নম্বর আসামি ছিলেন আবুল খয়ের ইসরাইল। গত ২৯ এপ্রিল তার মৃত্যু হলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে আবুল খয়ের ইসরাইলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১৭ নভেম্বর রাতে মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের (৮০) হুকুম ও প্ররোচনা ছিল। তদন্তে তার সবুজ সংকেত ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রভুক্ত ৭৯ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ ২৫ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনিক পাল বলেন, বাদীর এজাহার, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে মৃত ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়টি তার জানা নেই। মৃত্যুসনদ পেলে বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন