বিশেষ প্রতিবেদন

হবিগঞ্জে ২ মাসেও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি

বিশেষ প্রতিবেদন:

বিশেষ প্রতিবেদন:

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:০৭

হবিগঞ্জে ২ মাসেও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের আন্দিউড়া গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডে সরকারি খাল ভরাট করে বাড়ীর সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এতে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ কয়েকটি বাড়িঘরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশের প্রায় দুই মাস পার হলেও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে দায়ের করা ১৪৪ ধারার মামলার শুনানি শেষে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দিয়েছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া আক্তার। গত ৩১ আগস্ট দরখাস্ত মামলা নম্বর ৪৩১/২০২৬ (মাধবঃ)-এর আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার বাদী মো. আব্দুল হামিদ চৌধুরী এবং বিবাদী মোহাম্মদ উজ্জ্বল মিয়া সহ অন্যরা আন্দিউড়া গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

আদালতের আদেশ ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় বাড়িঘরের পানি নিষ্কাশনের জন্য পূর্ব-পশ্চিমমুখী একটি প্রবাহমান খাল ছিল। খালটির বিভিন্ন অংশ ভরাট করে বাড়িঘর ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিবাদীপক্ষের বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে থাকা ড্রেনের অর্ধেক অংশ সচল থাকলেও বাকি অংশ বন্ধ রয়েছে। পূর্ব পাশেও কোনো ড্রেন সচল নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা ও কয়েকটি বাড়িঘরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

শুনানিতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ থাকাকে বিরোধের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিজ নিজ দখলে থাকা অংশের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দেওয়া ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।

আদালতের আদেশে সহকারী কমিশনার(ভূমি) কে উভয় পক্ষের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তির স্বার্থ রক্ষায় ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ্ মৈত্রী রায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করবে। কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন