সিলেট

সুনামগঞ্জে মা-বাবা-বন্ধুসহ কারাগারে ছাত্রলীগ নেতা 

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৫৩

সুনামগঞ্জে মা-বাবা-বন্ধুসহ কারাগারে ছাত্রলীগ নেতা 

পুলিশের ওপর হামলা (অ্যাসল্ট) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হত্যার হুমকির ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স ও তার মা, বাবা, বন্ধুসহ ৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বোনের বয়স কম হওয়ায় তাকে সেফ হোমে পাঠিয়েছেন আদালত।

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন- দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তার মা শামী আক্তার পলি (৩৮), বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৫), প্রিন্সের বন্ধু ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের কাওছার আহমদ সোহাগ (২১), দিরাই উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের ইফাত আলম রাবিদ (২১), ধর্মপাশা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের শাহরিয়ার সাদি (১৯) এবং সিলেটের ভাদেরশ্বর গ্রামের তাকরিব রহমান তানহির (২০)।

পুলিশ জানায়, পুলিশ এ্যাসল্ট মামলায় শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাতে সিলেট মহানগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল এলাকা থেকে তাদেরকে  গ্রেফতার করা হয়। পরে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে প্রিন্সের ছোট বোন ছাড়া ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স ও তার মা-বাবাসহ ৭ জনকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালতের বিচারক মো. জসিম উদ্দিন সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক অজয় চন্দ্র দেব জানান, সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৭ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আদালতের বিচারক সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন এবং বিকেলে সবাইকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে প্রিন্সের বোনের বয়স কম থাকায় তাকে শিশু আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশু আদালতের বিচারক মাসুদুর রহমান স্কুল ছাত্রীর জামিন না মঞ্জুর করে সেফ হোমে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন- প্রিন্সের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছায়াদুর রহমান তালুকদার।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে  গ্রেফতার করে সদর থানার পুলিশ।  গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজতে অসুস্থ হলে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তার মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাজে বাধা, আঘাত ও আসামি ছিনতাই চেষ্টা করেন। এরপর ওই রাতেই তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তার পরিবার এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর শনিবার মধ্যরাতে তাদেরকে  গ্রেফতারের পর রোববার দুপুরে সবাইকে আদালতে তোলা হয়।

পুলিশের মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গত ৩০ অক্টোবর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ পরপর খিঁচুনির ভান করতে থাকে। এসময় ছাত্রলীগ, যুবলীগের কতিপয় নেতাকর্মী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রুমের ভেতরে প্রবেশ করে মব সৃষ্টি করে। প্রিন্সের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী ও মা, বোন, প্রিন্স মারা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পুলিশ সদস্যের ওপর মারমুখী আচরণ করতে থাকে। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রিন্সকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। প্রিন্সের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী তার ছেলে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছেন বলে কান্নাকাটি, চিৎকার ও কান্না-কাটি করতে থাকেন এবং পুলিশের ওপর মব সৃষ্টি করে ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর প্রিন্সের ছোট ভাই ফাহিম রাজা চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে সদর মডেল থানার ওসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে ক্ষতিসাধনের হুমকিসহ হত্যার হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রিন্সসহ সবাইকে পুলিশ সিলেট থেকে গ্রেফতার করে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন