হবিগঞ্জের মাধবপুরে মনতলা শাহজালাল সরকারি কলেজসংলগ্ন ডিসি খতিয়ানভুক্ত সরকারি মাঠের তিনটি মূল্যবান আকাশমনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান গঠিত তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মাহাদি হাসান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মাঠের দক্ষিণ পাশে থাকা গাছগুলো অধ্যক্ষের নির্দেশে কাটা হয়েছে। গাছগুলো মাঠে ছায়া দিত এবং সেখানে স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা খেলাধুলা করত। সরকারি জমিতে থাকা গাছ কীভাবে এবং কার অনুমতিতে কাটা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, “ডিসি খতিয়ানভুক্ত মাঠের গাছ কেটে ফেলা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। গাছগুলো মাঠে ছায়া দিত, মানুষ সেখানে খেলাধুলা করত। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
অভিযোগের পর গত ১২ অক্টোবর ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানা গেছে। তবে গাছ কাটার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, বন বিভাগের ছাড়পত্র ছিল কি না কিংবা দরপত্রের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান দাবি করেন, গাছগুলো কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেরাই লাগিয়েছিল এবং সেগুলো কলেজের সম্পত্তি। তাঁর ভাষ্য, কিছু গাছের ডালপালা ঝরে পড়ায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গাছ কাটার জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে, কলেজসংলগ্ন সরকারি মাঠে বাউন্ডারি নির্মাণকাজ নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, মাঠের চারপাশে বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে আগে স্থানীয় প্রশাসন কাজটি স্থগিত করে। তবে মাঠে পড়ে থাকা অর্ধনির্মিত বাউন্ডারির বাঁকানো রড পথচারী ও খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব বিপজ্জনক রড দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, ডিসি খতিয়ানভুক্ত সরকারি মাঠের গাছ যথাযথ অনুমতি ছাড়া কাটার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দুই কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তিনি নিজেও পর্যবেক্ষণ করছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে গাছ কাটার অনুমতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব এবং সরকারি সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি মাঠে পড়ে থাকা বিপজ্জনক রড অপসারণ করে খেলাধুলা ও জনসাধারণের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন