প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:০৫
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) হত্যার দায়ে জিতেশ চন্দ্র গোপ নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও মরদেহ গুমের চেষ্টার অপরাধে তাকে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর বাজারে সপরিবারে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মল্লিক মো. মঈন উদ্দিন সোহেল বলেন, রায়ের আদেশ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না বলেও রায়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে কারাগারের নির্ধারিত সেলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এ রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে দ্রুত রায়টি কার্যকরের দাবি জানান শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার ভাই ও মামলার বাদী হেলাল উদ্দিন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে জগন্নাথপুরের সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো পর গভীর রাতে ফার্মেসির ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ৬ টুকরা করা হয়। পরে মরদেহ গুমেরও চেষ্টা করা হয়। পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিকেল হল থেকে শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করলে ১৮ ফেব্রুয়ারি মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে দুই দফা রিমান্ড শেষে ঘটনার মূল আসামি জিতেশ চন্দ্র গোপ তার দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। সর্বশেষ পিবিআই জিতেশ চন্দ্র গোপের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এ রায় দেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন