ধর্ম

কালো জাদু করা আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে কি?

ধর্ম ডেস্ক:

ধর্ম ডেস্ক:

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১৩

কালো জাদু করা আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে কি?

প্রতিকী ছবি

কালো জাদু ও খারাপ জিনের উপদ্রব মানুষের জন্য ক্ষতিকর। কালো জাদুর মাধ্যমে অনেকেই অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে জাদুটোনা, কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক করা কুফরি ও কবিরা গুনাহ। 

হজরত সুলায়মান (আ.)-এর জমানায় জাদুর চর্চা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। জাদুর তালিম ছিল সে সমাজের নিত্যদিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নবীর নিষেধ সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি জাদুচর্চা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সুলাইমান কুফরি করেনি, কুফরি তো করেছিল শয়তানরাই। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত…। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১০২)

 এ আয়াতের মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে, বাহ্যিকভাবে হলেও জাদু মানুষের উপর প্রভাব সৃষ্টি করে। সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হয় যে জাদু করা কুফরি অর্থাৎ ঈমান ভঙ্গের কারণ। তাই যে ব্যক্তি জাদু করবে বা যাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ঈমানের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে মুরতাদ হিসাবে গণ্য হবে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে কালো জাদু থেকে সুরক্ষিত থাকার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের ১১৩তম সূরা, সূরা ফালাকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। এ সূরায় কালো জাদু থেকে সুরক্ষা ছাড়াও হিংসুক প্রকৃতির মানুষের অনিষ্ট থেকে বাঁচার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নবীজি (সা.) নিজেও জিন ও বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য নিয়মিত সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস পাঠ করতেন।

আমাদের সমাজে অনেকেই কালো জাদু করে অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। কালো জাদুর কারণে মানুষ শারীরিক,  মানসিক, আর্থিক ক্ষতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। নিজের আত্মীয়দের মধ্যেও অনেকে কালো জাদু করেন। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ওয়াজিব এবং তা ছিন্ন করা হারাম। তবে যদি কোনো আত্মীয় কালো জাদু করে তাহলে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে কিনা, এক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী?

এক্ষেত্রে ইসলামী চিন্তাবিদদের মতামত হলো, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। তবে আত্মরক্ষা ও দ্বীন রক্ষার খাতিরে অনিষ্টকারী ব্যক্তির ক্ষতি থেকে বাঁচাও জরুরি।

যদি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো আত্মীয় জাদুটোনা করে শারীরিক, মানসিক বা দ্বীনি ক্ষতিসাধন করছে, তবে নিজের নিরাপত্তা ও ক্ষতি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে তার সাথে মেলামেশা ও কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলে গুনাহ হবে না। 

ইসলামের সাধারণ মূলনীতি হলো, কোনো মুসলমানের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা থাকলে বা ক্ষতির পথ বন্ধ করার জন্য কারো সংস্পর্শ বর্জন করার প্রয়োজন হলে তা বৈধ। তবে অন্তরে অহেতুক স্থায়ী শত্রুতা না রাখা উচিত। সুযোগ থাকলে দূর থেকে দোয়া,  সালাম বা খোঁজ নেওয়া উত্তম।

ধর্ম থেকে আরো পড়ুন