সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২৫ জন। মারা যাওয়া শিশু দুটির বয়স যথাক্রমে ৩ ও ১০ মাস। তারা দুজনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সিলেট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে শিশু দুটির মৃত্যুকে এখনো সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৫ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪৪২ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫৮ জন। হবিগঞ্জের হিসাবের মধ্যে রুবেলায় আক্রান্ত দুইজনও রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১২৫ রোগীর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬০ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি হয়েছে।
বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৬৮ জন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৬৮ জন। এর মধ্যে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০০ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৮ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২ জন, পার্কভিউ হাসপাতালে ২০ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৯ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩০ জন এবং নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বনাথ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন করে রোগী ভর্তি রয়েছে।
সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে মৃত্যু ২০২
স্বাস্থ্য বিভাগের মৃত্যু-সংক্রান্ত হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ১৯২ জনের। অন্যদিকে, নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০। সব মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২ জনে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু ৭৯ জন এবং নিশ্চিত মৃত্যু ৪ জন। হবিগঞ্জে এ সংখ্যা যথাক্রমে ২৮ ও ৪, মৌলভীবাজারে ১৫ ও ১ এবং সুনামগঞ্জে ৭০ ও ১ জন।
ক্রমবর্ধমান রোগী ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান সিলেট বিভাগে শিশুদের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে অল্পবয়সী শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও সামনে এনেছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন