কামাল মিয়া : ছবি সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ ও অনুসন্ধান করায় এক সাংবাদিকের ভাইকে মারধর এবং ফেসবুকে ওই সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক সোয়েব মিয়া।
সোয়েব মিয়া দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী পত্রিকার মাধবপুর উপজেলা প্রতিনিধি।
জানা গেছে, সাংবাদিক সোয়েব মিয়া ও তার ভাই শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি মাধবপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও অনুসন্ধান করছিলেন। এর জেরে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া গ্রামের কামাল মিয়া ও তার লোকজন গত ১৬ অক্টোবর শফিকুল ইসলামের ওপর হামলা করে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার পর শফিকুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার কথা জানান বলে জানা গেছে।
এরপর ১৮ অক্টোবর দুপুরে ‘কামাল মিয়া’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক সোয়েব মিয়ার ছবি ব্যবহার করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পোস্টে লেখা ছিল, ‘শুরু করছি তোর ভাইরে দিয়া, শেষ দিমু তরে দিয়া।’
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোয়েব মিয়া বলেন, সাংবাদিকতা করতে গিয়ে হামলা, মামলা ও শত্রুতা—সবই যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করায় আমার ভাইয়ের ওপর হামলা হয়েছে এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন যদি আমাদের সহযোগিতা না করে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমি এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চাই।
এ ঘটনার পর সাংবাদিক সোয়েব মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
জিডিতে কামাল মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মাদকসংক্রান্ত মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তাকে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হলেও এসব অভিযোগের সত্যতা এবং মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনিস ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতা ও মানবজীবন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি এম এম গউস বলেন, সাংবাদিক ও তার পরিবারের ওপর হামলা এবং হুমকির অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সাংবাদিকেরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে হামলা ও হুমকির প্রকৃত ঘটনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
গণমাধ্যম থেকে আরো পড়ুন