ধর্ম

বিধবা নারীকে বিয়ে করা সাহাবির জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছিলেন

ধর্ম ডেস্ক:

ধর্ম ডেস্ক:

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:১৫

বিধবা নারীকে বিয়ে করা সাহাবির জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছিলেন

ছবি: সংগৃহীত

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তার বাবা আবদুল্লাহ (রা.) শাহাদাত বরণ করলেন এবং নয় বা সাতটি কন্যা রেখে গেলেন। পরে জাবির (রা.) এক বিধবা নারীকে বিয়ে করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা,) তাকে বললেন, জাবির! তুমি বিয়ে করেছ? জাবির (রা.) বললেন, হাঁ। তিনি বললেন, কুমারী মেয়ে না বিধবা মেয়ে?

জাবির (রা.) বলেন, বিধবা নারী! তিনি বললেন, কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না কেন? তাহলে তার সাথে তুমিও আনন্দ করতে পারতে এবং তোমার সাথে সেও আমোদ-প্রমোদ করতে পারত। কিংবা তিনি বলেছিলেন, তুমি তার সঙ্গে হাস্য-রস করতে সেও তোমার সঙ্গে হাস্য-রস করত।

জাবির (রা.) মহানবীকে (সা.) আমার পিতা আবদুল্লাহ নয়টি মেয়ে রেখে মৃত্যু বরণ করেছেন। আমি তাদের মাঝে (তরুণী বোনদের মাঝে) তাদের মত একজনকে (তরুণীকে) নিয়ে আসা অপছন্দ করলাম। তাই আমি এমন একজন মহিলাকে বিয়ে করলাম যে তাদের দেখাশুনা করবে এবং তাদের শুধরে দিবে ও গড়ে তুলবে। নবীজি (সা.) তার জন্য বরকতের দোয়া করে বললেন, তবে আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন। (বুখারি, মুসলিম)

হাদিসের শিক্ষা

পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের বড় হিসেবে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন হজরত জাবির (রা.)। মহানবী (সা.) তার কাছে বিয়ের কথা জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমার পিতা শহীদ হওয়ার সময় অনেকগুলো ছোট ছোট মেয়ে রেখে গেছেন। আমি যদি তাদেরই মতো কোনো কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে করে আনতাম, তবে সে তো আমার বোনদের দেখাশোনা বা চুল আঁচড়ে দিতে পারত না। তাই আমি একজন অভিজ্ঞ ও বয়স্কা নারীকে বিয়ে করেছি, যেন সে আমার বোনদের আগলে রাখতে পারে, তাদের দেখাশোনা করতে পারে এবং তাদের শিষ্টাচার শেখাতে পারে।

সাহাবি জাবিরের (রা.) এই মহানুভবতা এবং নিজের বোনদের প্রতি এমন দায়িত্ববোধ দেখে নবীজি (সা.) আনন্দিত হলেন এবং তার প্রশংসা করে বলেন, তুমি একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছো। এরপর তিনি তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। 

ধর্ম থেকে আরো পড়ুন