ছবি সংগৃহীত :
২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম আরও কঠোর করেছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হজের ভিসা ইস্যুর আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে মেডিকেল ফিটনেস বা ‘হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ নিতে হবে।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সনদ ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। গুরুতর কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হজ পালনের জন্য স্বাস্থ্যগত ছাড়পত্রও পাবেন না।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইসলামিক ওয়েব পোর্টাল দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন।
সৌদি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হজের শারীরিক পরিশ্রম, তীব্র গরম ও বিপুল জনসমাগমের মধ্যে হজযাত্রীরা যাতে নিরাপদে ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা যায়, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন স্বাস্থ্যবিধিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, হেলথ ক্লিয়ারেন্স, অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন রোগ এবং টিকার বিষয়ে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) হজের ভিসা পাওয়ার আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ‘হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করতে হবে। এ সনদ সৌদি আরবের সরকারি প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক মাসার’-এর মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই সনদ দেওয়া হবে। নুসুক মাসারে হেলথ ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও অনুমোদিত হওয়ার পরই হজের ভিসা ইস্যু করা হবে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর প্রবেশপথেও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সনদ পরীক্ষা করতে পারে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা
হজে যাওয়ার আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। বিভিন্ন দেশে স্থানীয় মেডিকেল স্ক্রিনিং কর্মসূচির আওতায় এ পরীক্ষা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই ধাপে সম্পন্ন হতে পারে।
এ পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো হজযাত্রী হজ পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন কি না, তা নিশ্চিত করা। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
যেসব রোগে হজে অযোগ্য হতে পারেন
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কয়েকটি গুরুতর স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে হজ পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো-
গুরুতর অঙ্গ বিকলতা: ডায়ালাইসিস-নির্ভর কিডনি বিকল হওয়া অথবা সামান্য শারীরিক পরিশ্রমেই উপসর্গ দেখা দেয় এমন হার্ট ফেইলিওর।
ফুসফুসের রোগ: দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ, যার চিকিৎসায় সার্বক্ষণিক বা কৃত্রিম অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়।
গুরুতর স্নায়ুবিক বা মানসিক সমস্যা: এমন তীব্র স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধি, যা স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি বা কগনিশনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে অথবা গুরুতর মোটর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
ডিমেনশিয়া: বার্ধক্যজনিত ডিমেনশিয়া বা চরম স্মৃতিভ্রংশ।
গর্ভাবস্থা: ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা অথবা গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস।
ক্যানসার: সক্রিয় ক্যানসার, যার জন্য বর্তমানে কেমোথেরাপি বা নিবিড় ইমিউনোসপ্রেসিভ চিকিৎসা চলছে।
সংক্রামক রোগ: জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ, যেমন ওপেন পালমোনারি টিউবারকিউলোসিস।
হজের আচার পালনে থাকতে হবে শারীরিক সক্ষমতা
নতুন স্বাস্থ্যবিধিতে হজের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সাধারণভাবে নিজের শারীরিক সক্ষমতায় সম্পন্ন করার সামর্থ্যের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাঁটার সময় সামান্য সহায়তার জন্য লাঠি ব্যবহারের অনুমতি থাকতে পারে। তবে চলাফেরার জন্য সম্পূর্ণভাবে হুইলচেয়ার বা ইলেকট্রিক স্কুটারের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সাধারণত হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
টিকার নিয়ম আলাদা
নতুন হেলথ ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু হলেও হজের বাধ্যতামূলক টিকার নিয়ম বাতিল হচ্ছে না। স্বাস্থ্য সনদ ও টিকা গ্রহণ দুটি পৃথক শর্ত হিসেবে বহাল থাকবে।
বিশেষ করে কোয়াড্রিভ্যালেন্ট মেনিনজোকোক্কাল ACWY টিকাসহ সৌদি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ, হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট থাকলেও প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণের শর্ত পূরণ করতে হবে।
দেশের নিয়ম অনুযায়ী হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় হজ কমিটি বা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। দেশভেদে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সময়সীমা ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
তাই হজযাত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অননুমোদিত কোনো উৎসের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ দেশের জাতীয় হজ কমিটির নির্দেশনা এবং সৌদি আরবের সরকারি ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ধর্ম থেকে আরো পড়ুন