প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২৫
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটাচলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নগরবাসীর সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ বাড়াতে সিলেটে খোলা জায়গা, পার্ক ও হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত ফ্রি ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহিমের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ডায়াবেটিস সেবা দিবস উপলক্ষে রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রাল এ ক্যাম্পের আয়োজন করে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ক্যাম্পে সার্বিক সহযোগিতা করে সিলেট ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল এবং পৃষ্ঠপোষকতা করে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।
সিসিক প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আগে এ রোগকে বয়স্কদের রোগ মনে করা হলেও বর্তমানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অপরিকল্পিত জীবনযাপন ও জেনেটিকসহ বিভিন্ন কারণে এ রোগ হতে পারে।
তিনি বলেন, ডায়াবেটিসকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে ডায়াবেটিস থেকে কিডনি, লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমিও একজন ডায়াবেটিস রোগী। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। তবে বিভিন্ন পাবলিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার কারণে অনেক সময় রক্তের শর্করা বেড়ে যায়। তারপরও নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি।’
সিলেটে পার্ক নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নগরবাসী যাতে নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সিলেটের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদাদিরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন ও বারডেম হাসপাতালের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশে সিলেট সিটি করপোরেশন থাকবে।
রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রোটারিসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠন মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিতে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করবে—এটাই প্রত্যাশা।
ক্লাব প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান পিপি রুহুল আলম খান পিএইচএফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সিলেট ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিবব্রত ভৌমিক চন্দন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সিলেট ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন