সিলেট

শাবিপ্রবিতে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীকে নিয়ে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শোডাউনের অভিযোগ

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:২৮

শাবিপ্রবিতে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীকে নিয়ে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শোডাউনের অভিযোগ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ এক ছাত্রদল নেতাকে নিয়ে শোডাউন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান মোহনের বিরুদ্ধে। এসময় তার সঙ্গে বহিরাগত কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক থেকে ছাত্রদল নেতা আদনান মোহনের নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলের বহর স্লোগান দিতে দিতে ছেলেদের আবাসিক হল চত্বরে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কৃত হাসিবুর রহমান (হাসিব) শোডাউনের সময় বহরে ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত অনেকে বহিরাগত ছিলেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, হাসিবুর রহমান শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে গত ১৯ জুলাই দলীয় পদ থেকে ও ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার হন তিনি। এসময় শর্ত ছিল, হাসিব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ বা অবস্থান করতে পারবেন না।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান মোহন বলেন, ‘গেটে বসে ছিলাম হঠাৎ মদিনা মার্কেট থেকে সিনিয়র ওসমান গণি ভাই কল দিয়ে আমাকে জানান নয়াবাজার এলাকা থেকে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে শোডাউন দিতে পারে। বিষয়টি শুনে ছাত্রদলের কয়েকজনসহ যারা বসে ছিলাম তাদের নিয়ে হল চত্বরে যায়। ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। তাদের প্রতিরোধ করতে হলের ভেতরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে আমরা যাব।’

বহিরাগত ও হাসিবের উপস্থিতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘না বহিরাগত কেউ ছিল না। হাসিব ছিল কিনা সেটা বলতে পারব না। সবার সামনে থাকায় হাসিবকে খেলাল করিনি, সে আমার সঙ্গে ছিল না।

ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হাসিবুর রহমান বলেন, ‘সবার পেছনে একটা বাইক ছিল আমি সেটাতে ছিলাম। হলে কিছু জিনিসপত্র ছিল সেগুলো আনতে গিয়েছিলাম। তারা ওই দিকে গেছে তাই বাইকে ছিলাম।’

হলের জিনিস আনতে শোডাউনের বাইকে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই শোডাউনটা আপনি ওই ভাবে নিতেছেন। আমি নরমালি গেছি, শোডাউনের সঙ্গে আমার কোনো যোগসূত্র নেই। শোডাউন আদনান ভাইয়ের নেতৃত্ব হয়েছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে, আমি শুধু হলে গিয়ে আমার জিনিসপত্র নিয়ে আসছি এর বাইরে কিছু না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘বহিষ্কার হওয়ার পর সে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না, যদি এমনটা হয়ে থাকে তারা অন্যায় করেছে যা কিছুতেই কাম্য নই। আমরা সিসি ক্যামেরাগুলো চেক করবো এবং শাস্তি শেষ হওয়া না পর্যন্ত যাতে সে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে সেই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিব। বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন, তবে কেউ যদি শোডাউনে এসে থাকে আমরা সিসি ক্যামেরা চেক করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।’

প্রক্টর আরও বলেন, ‘আগামীকাল প্রক্টরিয়াল বডির সাপ্তাহিক সভা আছে সেখানে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। রাজনীতি নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার সময় যে সব শর্ত দেওয়া হয়েছিল সেগুলো কেউ ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন