প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:২৯
ছবি: সংগৃহীত
কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর আবারও সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানও। এ ঘটনায় ইরানের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পাঁচজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রেড ক্রিসেন্ট।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এক দফা হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সমুদ্রভিত্তিক সামরিক সরঞ্জাম, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করা হয়।
ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, একই দিনে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে হরমুজ প্রণালির আশপাশে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে অনুমতি ছাড়া চলাচল করা তেলবাহী জাহাজগুলোকে ইরান আগে থেকেই হুমকি দিয়ে আসছে।
পাল্টা হামলায় ইরান জানিয়েছে, জর্ডান ও ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাহরাইনেও হামলা হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, জর্ডানে হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১০টি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং তিনটি প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে পড়েছে। বাহরাইনও জানিয়েছে, ইরানের কয়েকটি চালকবিহীন বিমান শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন বিমান দিয়ে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা। তবে ইরাক বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
জুলাইয়ের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাত। এর আগে কিছুদিন দুই পক্ষ হামলা থেকে বিরত থাকলেও আলোচনায় ফেরার আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি।
দীর্ঘ সংঘাতে ইরানের অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটির প্রচলিত সামরিক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির বাড়তি দামের চাপের মধ্যে রয়েছেন। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের বড় একটি অংশ ব্যবহার হয়ে গেছে।
তবে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে দাবি করে বলেন, ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে এবং দেশটির জনগণ কবে সরকারের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরও ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে আরও ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা যেকোনো দেশকেও এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
বিয়ের অনুষ্ঠানে নিহত ৫
হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকা সিরিকের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় পাঁচজন নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট।
মেহর সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। তবে প্রাদেশিক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা ৬৮।
ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ইরানের মিনাব এলাকায় একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন, যেখানে যুদ্ধের প্রথম দিনে ১৬০ জন নিহত হয়েছিল। ওই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
ইরান জানিয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলাসহ এসব ঘটনার জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন সরকারকে সতর্ক করে দেশটি বলেছে, এসব ঘটনার ক্ষেত্রে নীরব থাকা কোনো নিরপেক্ষতা নয়।
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন