সিলেট

মোগলাবাজার থানার আলোচিত-সমালোচিত ওসি মনির হোসেনকে প্রত্যাহার

নতুন সিলেট প্রতিবেদক :

নতুন সিলেট প্রতিবেদক :

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৯

মোগলাবাজার থানার আলোচিত-সমালোচিত ওসি মনির হোসেনকে প্রত্যাহার

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার আলোচিত-সমালোচিত (ওসি) মনির হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার মূর্শেদ শামীমের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ওসি মনিরের প্রত্যাহারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। খোদ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর, প্রশাসন ও ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন পদ-মর্যাদার কর্মকর্তাদের বিষয়টি সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তর নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয়ভাবে এসআই পর্যায় পর্যন্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনো ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয় এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হয়।

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এসআইদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইন্সপেক্টরের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সাবেক পুলিশ কমিশনারকে আদালতের শোকজ ও তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনার বিষয়েও প্রয়োজনীয় চিঠি ও প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। স্বজনপ্রীতির কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি- এমন অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে চূড়ান্ত নির্দেশনা বা প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ সদর দপ্তরে প্রয়োজনীয় চিঠি না পাঠালে নিয়ম অনুযায়ী বদলি বা পোস্টিংয়ের মতো প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। আর ওসি মনির হোসেনকে কোন কারণের ভিত্তিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।


এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার মোর্শেদ শামীম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশাসনিক কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনিক কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আগে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই অভিযোগগুলোর তদন্ত চলমান আছে।

পুলিশ সদস্যের দুই শিশুর মৃত্যু নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, হ্যাঁ, ওই বিষয়টিও তদন্তাধীন আছে।

উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মানসিক নির্যাতন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়। 

ওসি মনিরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ওসি মনিরের বিরুদ্ধে একে একে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, চোরাকারবারীদের সঙ্গে সখ্যতা, মামলা বাণিজ্যের প্রমাণ বেরিয়ে আসে।


সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ বিভাগে শুরু হয় তোলপাড়। মুখ খুলতে শুরু করেন পুলিশের অধস্তন সদস্যরাও। তবে অনেক কর্মকর্তা বলেন, এসব দীর্ঘদিনের হলেও ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কারণে মনিরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।


ওসি মনিরের অমানবিক আচরণের বিষয়টি সামনে আসে ছুটি চেয়েও না পাওয়ায় কনস্টেবল মামুনুরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাসপাতালে নিতে দেরি হয়। এ কারণে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখতে পারেনি মামুনুরের নবজাতক দুই সন্তান। কনস্টেবল মতিন মিয়ার পরিণতি আরও করুণ, গুরুতর অসুস্থ হলেও ছুটি পাননি। পরে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় তাকে।


নতুন করে উঠে আসে শাহপরান থানার এএসআই তোতা মিয়ার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের বিষয়টি। ২০২৫ সালে অতিরিক্ত মানসিক টর্চারের কারণে তোতা মিয়া স্ট্রোক করেন। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন