প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশের অসীম রহস্য উন্মোচনে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছেন বিজ্ঞানীরা। চিলিতে অবস্থিত ভেরা সি রুবিন অবজারভেটরির ৩.২ গিগাপিক্সেল (৩২০ কোটি পিক্সেল) শক্তিসম্পন্ন বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করে মহাকাশের গভীরে থাকা ৫ লাখেরও বেশি গ্যালাক্সি এবং ৫০ হাজারেরও বেশি নক্ষত্রের স্পষ্ট ছবি তুলেছেন তাঁরা। ছবিতে প্যাঁচানো বা স্পাইরাল গ্যালাক্সি, ডিম্বাকৃতি গ্যালাক্সি, একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়া গ্যালাক্সি এবং মহাবিশ্বের শুরুর দিকের সুদূর লালচে গ্যালাক্সিগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের ৮.৪ মিটার দূরবীক্ষণ যন্ত্রে থাকা ৩.২ গিগাপিক্সেলের এলএসএসটি ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিটি এক স্ন্যাপশটে তোলা হয়নি। ক্যামেরায় ধারণ করা শত শত আলাদা ছবির সমন্বয়ে দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এক্সপোজার দেওয়ার ফলে অত্যন্ত দূরবর্তী ও ক্ষীণ আলোর মহাজাগতিক বস্তুগুলোও এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞানীরা মহাকাশের যে অংশটির ছবি তুলেছেন, তাকে কসমস ফিল্ড বলা হয়। ২০০৩ সালে হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে প্রথম কাজ শুরু হওয়ার পর গত দুই দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এই স্থান পর্যবেক্ষণ করছেন। এই অঞ্চলটির মূল সুবিধা হলো এটি আমাদের নিজস্ব ছায়াপথের সমতল এবং ধূলিমেঘ থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত। ফলে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট দৃষ্টিসীমায় কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের দৃশ্য ধারণ করতে পেরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ও জ্বালানি বিভাগের অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগ রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের ১০ বছর মেয়াদি লেগাসি সার্ভে অব স্পেস অ্যান্ড টাইম প্রকল্পের অংশ। রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের পরিচালক বব ব্লাম জানিয়েছেন, এই কসমস ফিল্ডের ছবি তোলার কার্যক্রম কেবল শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোয় এই একই অঞ্চলে বারবার নজর রেখে মহাকাশে নক্ষত্রের বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
তথ্য প্রযুক্তি থেকে আরো পড়ুন