তথ্য প্রযুক্তি

অনলাইনে নতুন স্ক্যাম, ৫ ভুলে মুহূর্তেই খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ ১৯:১১

অনলাইনে নতুন স্ক্যাম, ৫ ভুলে মুহূর্তেই খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠছে সাইবার প্রতারক চক্র। শুধু ওটিপি হাতিয়ে নেওয়াই নয়, এখন ভুয়া কাস্টমার কেয়ার, নকল ব্যাংকিং ওয়েবসাইট, রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহকদের সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ প্রতারণার পেছনে প্রযুক্তিগত ত্রুটির চেয়ে ব্যবহারকারীর অসতর্কতাই বড় কারণ। তাই কয়েকটি সাধারণ ভুল এড়াতে পারলেই আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে পাঁচটি ভুল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির কারণ-

১. ভুয়া কাস্টমার কেয়ারের ফাঁদে পড়া: প্রতারকরা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে কেওয়াইসি হালনাগাদ, অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা লেনদেন আটকে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে ওটিপি, পিন, সিভিভি কিংবা কার্ডের তথ্য জানতে চায়। ব্যাংক কখনোই এসব গোপন তথ্য ফোনে চায় না।

২. নকল ওয়েবসাইটে লগইন করা: এসএমএস, ই-মেইল বা মেসেঞ্জারে পাঠানো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করে ভুয়া ব্যাংকিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে লগইন তথ্য সরাসরি প্রতারকদের হাতে চলে যেতে পারে।

৩. অচেনা অ্যাপ ইনস্টল করা: ক্যাশব্যাক, সহজ ঋণ বা অনলাইনে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক অ্যাপ ইনস্টল করানো হয়। এসব অ্যাপ ফোনের অনুমতি নিয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তাই শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে ব্যাংকিং লেনদেন: বিমানবন্দর, রেস্তোরাঁ বা অন্যান্য উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন করলে তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে। নিরাপদ লেনদেনের জন্য মোবাইল ডাটা বা বিশ্বস্ত ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করাই ভালো।

৫. একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা: একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে একটি অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হলেই অন্যগুলোও ঝুঁকিতে পড়ে। তাই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ওটিপি, পিন বা সিভিভি কোনো অবস্থাতেই অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। সন্দেহজনক লিংক, কিউআর কোড বা অচেনা অ্যাপ এড়িয়ে চলতে হবে। ব্যাংকের নামে কোনো ফোন এলে তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্মার্টফোন ও ব্যাংকিং অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখা এবং কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে এলে দ্রুত ব্যাংককে জানানো জরুরি।

ডিজিটাল লেনদেন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তবে একই সঙ্গে বেড়েছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকিও। তাই সচেতনতা, তথ্য যাচাই এবং নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাসই কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

তথ্য প্রযুক্তি থেকে আরো পড়ুন