হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াছিন নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কর্তব্যরত নার্স ভুলভাবে ইনজেকশন দেওয়ার পরই শিশুটির মৃত্যু হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া ইনজেকশনের কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াছিন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আঃ রউফের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইয়াছিন হাম আক্রান্ত হলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর গত রোববার শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সোমবার আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চেকআপের জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে আসার পর কর্তব্যরত নার্স রিংকু রানী শিশুটিকে একটি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, ইনজেকশনটি নিয়ম অনুযায়ী না দিয়ে ভুলভাবে প্রয়োগ করার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত নার্স রিংকু রানী হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বিশ্বজিৎ বলেন, শিশুটিকে নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইনজেকশন রগে না দিয়ে মাংসে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতির সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে, ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বক্তব্যের জন্য হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাহিদুর হকের মোবাইলে একাধিকবার কল।দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন