মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্লাস চলাকালীন স্কুলের চারপাশে পৌরসভার ফগার মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ ছিটানোর পর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৫ ছাত্রী গুরুতর সুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারায়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের কলেজ রোডস্থ শাহ মোস্তফা জামেয়াা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো- দশম শ্রেণির ছাত্রী আতিকা, ফাইজা এবং সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আরিফা। অপর দুই শিক্ষার্থী সপ্তম শ্রেণির রূপসা আক্তার মাহিয়া ও সাবিকুন্নাহার ব্যাপারী প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভা শহরজুড়ে মশক নিধন অভিযান শুরু করে। রোববার দুপুরে স্কুল চলাকালীন কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই শাহ মোস্তফা জামেয় ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চারপাশে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হয়। বিষাক্ত ধোঁয়া এড়াতে শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করা হলেও জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে বাষ্প ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিষাক্ত বাতাসে শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশ ভরে গেলে শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্ট ও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
অসুস্থ এক শিক্ষার্থী জানায়, মশার ওষুধ দেওয়ার সময় আমাদের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। সবাই কাশতে কাশতে অস্থির হয়ে পড়ি। হঠাৎ বান্ধবী মাথা ঘুরে পড়ে গেলে শিক্ষকদের জানাই।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আতিকার চাচা শেখ মোহাম্মদ জালাল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে গিয়ে দেখি ভাতিজির নাক-মুখ বন্ধ হয়ে আসছে। তাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিই। কিন্তু সমময়তো সরকারি অ্যাম্বুলেন্স কিংবা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। পরে চিকিৎসকরা দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ক্লাস শেষে বা ছুটির পর ওষুধ স্প্রে করতে পারত। অদূরদর্শিতার কারণে আজ শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে।
শাহ মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মনসুর জানান, ‘স্কুল চলাকালীন ওষুধ ছিটানোর বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত অভিভাবকদের জানিয়ে তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাভীদ বিন রাইয়ান বলেন, ‘মশার ওষুধের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকেই ছাত্রীরা মারাত্মক শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’
ঘটনার বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই, এখন জানলাম। তবে ভবিষ্যতে যেন সবসময় স্কুল ছুটির পরই ওষুধ স্প্রে করা হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।’
সিলেট থেকে আরো পড়ুন