প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:০০
প্রতিকী ছবি
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই নারীর ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত ও নগ্ন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ৩৭ বছর বয়সী এক নারী। মামলার পর সেলিম উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী নারী।
গ্রেফতার সেলিম উদ্দিন উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের মৃত আরব আলীর ছেলে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন তাজপুর গ্রামের আঙ্গুর বেগম (৪২) ও লিজা বেগম (২২)। পরে সেলিম উদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দুবাইপ্রবাসী। মামলার দুই নারী আসামির সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আঙ্গুর বেগম তার ফুফাতো বোন এবং লিজা বেগম তার ভাতিজি। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে ওই নারী আঙ্গুর বেগমের মোবাইলে কয়েকটি ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়েছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৩ মার্চ রাত ১০টার দিকে সেলিম উদ্দিন একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ওই নারীকে ফোন করেন। এ সময় তিনি নিজেকে মৌলভীবাজার পুলিশের একজন ‘বড় কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচয় দেন। শাহবাজপুর তদন্তকেন্দ্রের একজন কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ছবি পাঠিয়ে তারা তার অধীনে কাজ করেন বলেও দাবি করেন।
পরে সেলিম ওই নারীকে জানান, আঙ্গুর বেগম ও লিজা বেগমের কাছে তার কিছু অশ্লীল ও নগ্ন ছবি রয়েছে। টাকা না দিলে এসব ছবি তার স্বামীর কাছে পাঠানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে ওই নারী বিভিন্ন সময়ে সেলিমের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার, ৫ হাজার, ৫ হাজার ও ৭ হাজার টাকা পাঠান। এতে মোট ৪৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি তার স্বামী জানতে পারেন।
এরপর ভুক্তভোগী নারী আঙ্গুর বেগমের কাছে টাকা ফেরত চান। এজাহারে বলা হয়েছে, পরে সেলিমের বিকাশ নম্বর থেকে ওই নারীর মায়ের বিকাশ নম্বরে দুই দফায় ১০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এরপরও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে সেলিম উদ্দিন ভুক্তভোগীর স্বামীকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে জানান, তার কাছে ওই নারীর অশ্লীল ও নগ্ন ছবি রয়েছে। টাকা না দিলে এসব ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। স্ত্রীর সম্মানের কথা বিবেচনা করে গত ১৩ মার্চ সেলিমের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান ওই নারীর স্বামী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এরপরও সেলিম তার কাছে টাকা দাবি করতে থাকেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি আর টাকা দিতে রাজি না হলে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে তার ব্যক্তিগত ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত ও নগ্ন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এজাহারে বলা হয়, গত ৯ জুলাই তৃতীয় আসামি লিজা বেগমের ‘কষ্টের ভরা জীবন আমার’ নামের ইমো আইডি থেকে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর ইমো আইডিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ওই বিকৃত ছবি পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, সেলিম নিজের পরিচয় গোপন করে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। পরে অপর দুই আসামির সহযোগিতায় তার ব্যক্তিগত ছবি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও নগ্ন করে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, “ভুক্তভোগী নারী সাইবার সুরক্ষা আইনে থানায় মামলা করেছেন। মামলার সঙ্গে তিনি বিভিন্ন প্রমাণও দিয়েছেন। মামলার পর একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।”
সিলেট থেকে আরো পড়ুন