ছবি সংগৃহীত :
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভারত থেকে চোরাইপথে আনা ছয়টি মোটরসাইকেলসহ চোরাচালান চক্রের নয় সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সীমান্তপথে ভারত থেকে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশে আনার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকার কাটা জঙ্গল বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার কচুয়ারপাড় গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে কামিম আহম্মদ (২৮), সিলেট কোতোয়ালি থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহী ঈদগাহ এলাকার মনির মিয়ার ছেলে করিম (৩০), সুনামগঞ্জ সদর থানার পুরাতন গদিগাঁও গ্রামের শাহ আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২), সিলেটের জালালাবাদ থানার নলকট গ্রামের তরিক মিয়ার ছেলে পাবেল আহম্মদ (২৬), একই থানার নীলগাঁও গ্রামের খালেকের ছেলে হোসাইন (২৩), সুনামগঞ্জের দিরাই থানার দিরাই চান্দপুর গ্রামের হেমেন্দ্র চন্দ্রদাসের ছেলে রিপন চন্দ্র দাস (২৯), সিলেট কোতোয়ালি থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চারাদিঘিরপাড় এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে রাজু আহম্মদ (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার তাতিকোনা গ্রামের সাহেদ আলীর ছেলে আবিদুল ইসলাম (২৮) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার সালুটিঘর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে কাওছার হোসেন (২৬)।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ জানান, ময়নামতি এলাকার কাটা জঙ্গল এলাকায় সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কে ডিবি পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছিল। রাত আড়াইটার দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে করে নয়জন সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে তাদের আটক করে।
পুলিশ জানায়, আটকের পর মোটরসাইকেলগুলোর বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তবে আটক ব্যক্তিরা কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করা হয়।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে চোরাইপথে ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পরে কুমিল্লা, ফেনী ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
ডিবির ওসি শামছুল আলম শাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আটক নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন