ধর্ম

শিশুকে নামাজে আগ্রহী করবেন যেভাবে

ধর্ম ডেস্ক:

ধর্ম ডেস্ক:

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৩

শিশুকে নামাজে আগ্রহী করবেন যেভাবে

ছবি সংগৃহীত :

ইসলামে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কালেমার পর নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে নামাজের সঙ্গে পরিচিত করা এবং ধীরে ধীরে নামাজে অভ্যস্ত করে তোলা অভিভাবকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

 

 

তবে শিশুদের নামাজ শেখানোর ক্ষেত্রে জোর বা কঠোরতার পরিবর্তে ভালোবাসা, উৎসাহ ও সুন্দর পরিবেশ তৈরি করাই বেশি কার্যকর। কয়েকটি সহজ উপায়ে শিশুকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা যায়

নিজে নামাজ পড়ে উদাহরণ তৈরি করুন

শিশুর প্রথম শিক্ষক তার বাবা-মা। সন্তান সাধারণত অভিভাবকদের দেখেই অনেক কিছু শেখে। তাই বাবা-মা নিয়মিত সময়মতো নামাজ আদায় করলে শিশুর মধ্যেও নামাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। সম্ভব হলে শিশুকে পাশে রেখে অজু ও নামাজ আদায় করা উচিত।

ছোটবেলা থেকেই নামাজের সঙ্গে পরিচয় করান

রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নামাজ শেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে—

«مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ، وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ»

অর্থ: ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও। আর ১০ বছর বয়সে তারা নামাজ না পড়লে তাদের শাসন করো এবং তাদের শয্যা আলাদা করে দাও।’

—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৫

এখানে মূল শিক্ষা হলো—শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নামাজের শিক্ষা ও অভ্যাসের মধ্যে গড়ে তোলা। তবে বয়স ও শিশুর মানসিক বিকাশ বিবেচনায় ভালোবাসা ও ধৈর্যের সঙ্গে তাকে শেখাতে হবে।

শিশুর জন্য আলাদা জায়নামাজ দিন

শিশুর নিজের একটি সুন্দর জায়নামাজ থাকলে নামাজের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে পারে। জায়নামাজটি তার নিজের বলে অনুভব করানো এবং সেটি যত্ন করে রাখার অভ্যাস তৈরি করাও ভালো।

নামাজের সময় সহজভাবে মনে করিয়ে দিন

ঘরে নামাজের সময়সূচি দৃশ্যমান জায়গায় রাখা যেতে পারে। নামাজের সময় হলে শিশুকে সুন্দরভাবে মনে করিয়ে দিন—‘চলো, আমরা একসঙ্গে নামাজ পড়ি।’ এতে নামাজ তার কাছে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠবে।

আল্লাহর নিয়ামতের কথা বলুন

শুধু নামাজের নিয়ম শেখালেই শিশুর মনে ইবাদতের গভীরতা তৈরি নাও হতে পারে। তাকে সহজ ভাষায় আল্লাহর সৃষ্টি, দয়া ও অসংখ্য নিয়ামতের কথা বলতে হবে। বোঝাতে হবে, নামাজ হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করুন

শিশুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্দর চরিত্র, দয়া, ক্ষমা ও শিশুদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ঘটনা শোনানো যেতে পারে। নবীজির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হলে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করার আগ্রহও শিশুর মধ্যে বাড়বে।

একসঙ্গে নামাজ পড়ুন

পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করলে শিশুর মধ্যে জামাতে নামাজ পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়। বাবা ইমামতি করলে সন্তানদের পাশে নিয়ে নামাজ পড়া যেতে পারে। শিশু সক্ষম হলে তাকে আজান ও ইকামত শেখানোও যেতে পারে।

ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করুন

শিশুর কাছ থেকে একদিনেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্ণ অভ্যাস আশা করা ঠিক নয়। বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে তাকে নামাজের সঙ্গে অভ্যস্ত করতে হবে। একটি ওয়াক্ত দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে অন্য ওয়াক্তগুলোর প্রতি আগ্রহ তৈরি করা যেতে পারে।

ভালো কাজের প্রশংসা করুন

শিশু নামাজ পড়লে তার প্রশংসা করুন। উৎসাহ দিতে ছোটখাটো উপহারও দেওয়া যেতে পারে। তবে এমনভাবে করা উচিত নয় যাতে উপহার না পেলে সে নামাজ পড়তে না চায়। মূল লক্ষ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা।

ভালোবাসার সঙ্গে দৃঢ় থাকুন

শিশু কোনো দিন নামাজে অনীহা দেখাতেই পারে। তখন বকাঝকা বা অপমান না করে কারণটি বোঝার চেষ্টা করা উচিত। একই সঙ্গে নামাজ যে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, সেটি তাকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে। অভিভাবকের ধৈর্য, ভালোবাসা ও নিয়মিত তাগিদ শিশুর অভ্যাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সন্তানের নামাজের অভ্যাস গড়তে কোরআনের শিক্ষা

সন্তানকে নামাজের প্রতি যত্নশীল করে তোলার বিষয়ে কোরআনেও দিকনির্দেশনা রয়েছে। হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন—

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ

অর্থ: ‘হে আমার রব! আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব! আপনি আমার দোয়া কবুল করুন।’

—সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪০

সন্তানকে নামাজের শিক্ষা দেওয়া শুধু একটি অভ্যাস তৈরি করা নয়; বরং ছোটবেলা থেকেই তাকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়া। তাই কঠোরতার পরিবর্তে ভালোবাসা, নিজের আমলের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত এবং ধৈর্যের সঙ্গে নিয়মিত উৎসাহ—এই তিনটি বিষয় শিশুকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্ম থেকে আরো পড়ুন