ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ডলারের দরপতনের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার হু-হু করে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে তা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্পট সোনার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৪১ দশমিক ২৭ ডলারে। এর আগে গত ১৫ মে’র পর সোনার দর আর এই উচ্চতায় ওঠেনি। বিদায়ী সপ্তাহেও ধাতুটির দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা জানান, মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় অন্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে নির্ধারিত সোনা কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার গতি বেশ শক্তিশালী। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ডলারের বিনিময় হার, বন্ডের সুদের হার এবং বিশ্ব অর্থনীতির নীতিগত দিকগুলোর দিকে নজর রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় মূল্য সূচকের (পিসিই) হালনাগাদ তথ্য এবং আসন্ন জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে ফেড প্রধানের বক্তব্য থেকে সুদের হারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে। ফেড যদি সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেয়, তবে সোনার দাম সামনে আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থনৈতিক উপাদানের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও সোনার এই দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে আজ প্রতি আউন্স স্পট রুপার দাম স্থির রয়েছে ৬৮ দশমিক ৯৮ ডলারে। একই সময়ে প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৮ ডলারে পৌঁছেছে, তবে প্যালাডিয়ামের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
অর্থনীতি থেকে আরো পড়ুন