প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০০:৪৮
ছবি সংগৃহীত :
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্মতারিখ সংশোধনের উদ্দেশ্যে স্টুডিওতে গিয়ে শ্লীলতাহানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক জীবন আহমেদ লিটনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার ১১ নম্বর মক্রমপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের মেয়ের বাবা বানিয়াচং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে বুধবার (৫ আগস্ট) বিষয়টি থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় (মামলা নং: ৫, তারিখ: ০৫/০৮/২০২৬)।মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—২ নম্বর উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের শেখের মহল্লার বাসিন্দা ও উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জীবন আহমেদ লিটন (৩৫) এবং ১১ নম্বর মক্রমপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামের কৃষ্ণ রায় (৫০)।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুরে বাদী তার মেয়েকে নিয়ে এনআইডি কার্ডের জন্মতারিখ অনলাইন সংশোধনের জন্য বানিয়াচং বড় বাজারের “হাসিখুশি ডিজিটাল স্টুডিও”-তে যান। সেখানে অভিযুক্তরা কৌশল অবলম্বন করে বাদীর হাতে ৫০ টাকা দিয়ে পান-সিগারেট কেনার নামে বাইরে পাঠিয়ে দেন। এই সুযোগে স্টুডিওতে তরুণীকে একা পেয়ে এনসিপি নেতা জীবন আহমেদ লিটন তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং শ্লীলতাহানি ঘটান।ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি স্থানীয় ২ নম্বর বানিয়াচং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ারিশ উদ্দিন খানকে জানালে তিনি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি, চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ফেরার পথে অভিযুক্ত লিটন তাদের পথরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা এবং মামলা না করার জন্য বাদীপক্ষকে অনবরত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করে বানিয়াচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন বলেন, বুধবার অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন